শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৯

বাসচালকদের পাল্লাপাল্লি

আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে ওরা

দেড় কোটি মানুষের মহানগরী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল বেশির ভাগ সময় হয় স্তব্ধ থাকে অথবা ধীরগতিতে চলে। তবে সুযোগ পেলেই গণপরিবহনের চালকরা যে বেপরোয়া হয়ে ওঠে এটি একটি ওপেন সিক্রেট। বিশেষ করে বাসচালকরা একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দেওয়াকে তাদের কৃতিত্ব বলে ভাবে। এমন ধরনের পাল্লা দেওয়ার ঘটনায় প্রায়ই দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে। বলা যায়, রাজধানীতে যেসব সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার বেশির ভাগই হয় পাল্লাপাল্লির অশুভ প্রবণতার কারণে। গত সোমবার নিরাপদ সড়ক দিবসে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে দুই পথচারী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। দুই বাসের পাল্লাপাল্লির শিকার হয়ে তাদের জীবন দিতে হয়েছে। রাজধানীতে চলতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব মৃত্যু ঘটেছে তার এক বড় অংশের জন্য দায়ী বাসের পাল্লাপাল্লির ঘটনা। বাসচালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণেই একের পর এক প্রাণ ঝরছে। পাল্লাপাল্লির পাশাপাশি রাস্তার ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী নেওয়া তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো প্রায়ই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। বাসমালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের অলিখিত সমঝোতা থাকায় তারা যা ইচ্ছা তাই করার ধৃষ্টতা দেখায় এমন একটি রটনা রয়েছে। আমরা আশা করব, যাত্রাবাড়ীর সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী দুই বাসচালকের দৃষ্টান্তমূলক সাজার ব্যবস্থা করা হবে। রাজধানীতে বাসচালকদের পাল্লাপাল্লি বন্ধে এর মূল কারণ চুক্তিতে বাস চালানোর পদ্ধতি বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাসমালিক সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধ হবে। কিন্তু তা যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল বিষয়টি এখন দিবালোকের মতই স্পষ্ট। বাসচালকদের পাল্লাপাল্লির কা-জ্ঞানহীনতা অব্যাহত থাকার পেছনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দায় কম নয়।

বাসমালিকদের সংবিৎ ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেতন হবেন- এমনটিই প্রত্যাশিত।

 


আপনার মন্তব্য