শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:১৮

রোহিঙ্গা বিড়ম্বনা

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সচেষ্ট হোন

রোহিঙ্গা বিড়ম্বনা

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় হলেও দেশে ফেরত যাওয়ার বদলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চায়। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতেও তারা আগ্রহী। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির থেকে ইতিমধ্যে সপরিবারে উধাও হয়ে গেছে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা। এর সিংহভাগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে বসবাস করছে। অন্য অংশ বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বা মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে দুর্বৃত্তপনায় জড়িত হয়ে বাংলাদেশের সুনামকে জিম্মি করছে। এক বছরের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। সীমান্ত গলিয়ে রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। এসব রোহিঙ্গার গন্তব্য হচ্ছে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির। এরই মধ্যে ১ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভারত থেকে কক্সবাজারের ট্রানজিট ক্যাম্পে এসে পৌঁছেছে। কক্সবাজারের শিবিরগুলোয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনকৃত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার। বর্তমানে রয়েছে ৯ লাখ ১৫ হাজার। আরও ২ লাখ রোহিঙ্গার হদিস না মেলায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গারা বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ জাতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশের ধর্মান্ধ চক্রের চাপে সরকার তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের পাহাড়-টিলা ধ্বংস ও লাখ লাখ বৃক্ষ নিধন হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে গতি এসেছে। কক্সবাজারের সামাজিক পরিবেশ দূষিত করে তুলছে অবাঞ্ছিত আশ্রয়প্রার্থীরা। আমরা আশা করব, রোহিঙ্গাদের দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের অন্যত্র কেউ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং তাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এমনটিও প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য