শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪০

বনভোজন

আফতাব চৌধুরী

বনভোজন

এখন বনভোজনের সময়। বনভোজনের স্থান নির্বাচন নিয়ে চলছে রীতিমতো শলাপরামর্শ। বিভিন্ন পিকনিক পার্টি বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছে তারস্বরে চিৎকার করে। ব্যানারে ব্যানারে কত না স্লোগান। কত হাই ডেসিবেলের শব্দবাজি চলছে এই পিকনিকের নামে। চলছে গাড়িতে গাড়িতে তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রতি বছর পিকনিক পার্টির গাড়ি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে কত প্রাণ যে অকালে ঝরে পড়ে, তবু হুঁশ হয় না সংশ্লিষ্ট পিকনিক পার্টির। হুঁশ হয় না প্রশাসনেরও। পিকনিক স্পট নিয়েও বিভিন্ন দলের মধ্যে বচসা এবং শেষমেশ মারামারির মতো অবাঞ্ছিত ঘটনাও ঘটে। কাকে টেক্কা দিয়ে কে আগে যাবে, এ নিয়েও চলে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। পিকনিক পার্টির সঙ্গে পথ চলতি মানুষের ঠেলাধাক্কার খবর প্রায়ই শোনা যায়। হাটবাজার গরম করেই এরা চলে। বেশির ভাগ পিকনিক পার্টি মানে না কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা। সহজেই জামার আস্তিন গোটাতে অভ্যস্ত এরা। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ একটি বিষয়কে গুরুতর করে তোলে। প্রশাসনের সময়োচিত নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ যে কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনাকে তৎক্ষণাৎ মীমাংসা করে দিতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, পিকনিক স্পটগুলোয় কিন্তু পুলিশি টহলের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তা ছাড়া দুরন্ত গতিতে মাইকে ভীষণ শব্দ করে চলা পিকনিক পার্টির গাড়িগুলোর লাগাম ধরার মতো কোনো ব্যবস্থাও পুলিশ কিংবা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয় না, তারুণ্যের প্রাবল্যে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যেসব ছেলেমেয়ে অবাধে বেলেল্লাপনায় মত্ত হয়, সুরাসক্ত হয়, তাদের দিশা দেখানোর মতো কোনো মুরব্বিও সঙ্গে থাকেন না। ফলে ঘটে অবাঞ্ছিত সব ঘটনা।

পিকনিকে যেতে কাউকে তো আর বাধা দেওয়া যায় না। কিন্তু প্রতিটি পরিবার থেকে যদি সংশ্লিষ্টদের কড়াভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং  সঙ্গে থাকে পুলিশের কড়া নজরদারি, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা ও অবাঞ্ছিত-অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিহত করা যেতে পারে। পিকনিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের অনুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় তদন্তক্রমে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করতে পারে। তবে প্রতিটি পিকনিক পার্টির অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে একেকজন জামিনদারের জিম্মায় তাদের দিতে হবে। সেই জিম্মাদার নিজে অথবা তার প্রতিনিধি পর্যবেক্ষণ করবেন যাতে সংশ্লিষ্ট পিকনিক পার্টি ঘণ্টায় নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি গতি তুলতে না পারে, অযথা কারও সঙ্গে মারামারিতে যাতে লিপ্ত না হয়, শালীনতা যাতে বজায় থাকে, মদ্যপানসহ অন্যান্য অসামাজিক কাজে যাতে দলের কোনো সদস্য লিপ্ত না হয়, পিকনিক স্পটটি ছেড়ে চলে আসার সময় যাতে পারতপক্ষে পরিচ্ছন্ন করে আসা হয় ইত্যাদি। পিকনিক স্পটগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষে আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়া উচিত। অর্থাৎ জেলার ভিতরের এবং বাইরের পিকনিক স্পটগুলোর একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের পক্ষে তৈরি করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ, কোনো কোনো পিকনিক পার্টির ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তরা ঝাঁপিয়ে পড়ে পিকনিক দলের সদস্যদের যথাসর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ারও ঘটনা ঘটে। ফলে বনভোজন নিয়ে অভিভাবকসহ জেলা প্রশাসনকেও নতুন করে ভাবতে হবে।

            লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।


আপনার মন্তব্য