Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৫

বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াতি কাফেলা

মুহম্মদ জিয়াউদ্দিন

বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াতি কাফেলা

আগামী ১৫ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর তুরাগতীরে হবে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা সামনে রেখে দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসছেন ইসলামের দাওয়াতি কাফেলার সঙ্গীরা।

তাবলিগ জামাত তাদের দীনি দায়িত্ব পালনে সত্যিকার অর্থেই অতুলনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দুনিয়াদারি লাভ-লোকসান ও আত্মপ্রচারকে উপেক্ষা করে তারা মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরছেন মানুষের সামনে। বিপথগামী মানুষকে সুপথে আনার জন্য তারা নিবেদিতপ্রাণ মনোভাব নিয়ে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সূরা হা-মিম-আস সাজদার ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কথায় কে উত্তম ওই ব্যক্তি অপেক্ষা যে আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহ্বান করে এবং বলে আমি তো অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।’ এ আয়াতে যারা আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। তাদের প্রশংসা করা হয়েছে এজন্য যে, তারা শুধু আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানই করে না নিজেরাও নেক আমল করে এবং নিজেদের মুসলমানদের মধ্যে একজন ভাবে। আল কোরআনের আরও কিছু আয়াতে মুমিনদের দাওয়াতি কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সূরা আলে ইমরানের ১০৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একদল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে; এরাই সফলকাম।’ এ আয়াতে উম্মতদের মধ্যে একটি জামাত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যে জামাত ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করবে। যারা মানুষকে সৎপথে চলতে উদ্বুদ্ধ করবে। অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য মানুষকে সাবধান করবে। মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাত শুরু থেকে এ দায়িত্ব পালন করছে। তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহর হুকুমকে আত্মস্থ করা, আল্লাহ মুমিনদের যে পথে যেতে মানা করেছেন সে পথ থেকে দূরে থাকা।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজেও উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা যেন যারা উপস্থিত নেই তাদের কাছে তাঁর বাণী পৌঁছে দেয়। বস্তুত, এ আহ্বানের মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। তাবলিগের দাওয়াতি কার্যক্রম লাখ লাখ মানুষকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বাতলে দেওয়া পথে ফিরিয়ে এনেছে তাদের সৎকর্মের সঙ্গী করেছে। অসৎ কর্ম থেকে দূরে থাকার ইমানি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শক্তি জুগিয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে লাখ লাখ মুসল্লি সেই পথ আঁকড়ে ধরার ওয়াদা করছে। আল্লাহ তাদের সদিচ্ছাকে পূরণ করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য