Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১১

ধর্মতত্ত্ব

ইসলাম ও আমরা

মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী

ইসলাম ও আমরা

আলোচ্য শিরোনামের প্রতি লক্ষ্য করলে আমরা দুটি বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পারি, এক. ইসলাম কি? দুই. আমরা ইসলাম বলতে কি বুঝি? এখানে উভয় বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। ইসলাম অতিসহজ ও নির্ঝঞ্ঝাট এক সুন্দর জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলাম পালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যুগে যুগে শান্তি ও প্রশান্তি দান করেছিলেন। যে অনাবিল শান্তি ও প্রশান্তি প্রতিটি মুসলমান হৃদয়ে অনুভব করে থাকেন। মানব সমাজের অনেকের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে, ইসলাম মেনে চলা খুবই কঠিন। মানুষের মধ্যে এই ধরনের ভুল ধারণা সৃষ্টির সম্ভাব্য কারণ হলো, তারা ইসলাম সম্পর্কে মোটেই সঠিক জ্ঞান রাখেন না বা কিছুটা জ্ঞান রাখলেও বুঝেও না বুঝার ভান করেন। ইসলামের মূলনীতিগুলো বিবেচনা করলেই বোঝা যায় যে, ইসলাম অতি সহজ একটা সুন্দর জীবন ব্যবস্থার নাম, ইসলাম মেনে চলা খুবই সহজ এবং বাস্তবধর্মী। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘তোমাদের পক্ষে যা সহজ আল্লাহ তাই চান ও তোমাদের পক্ষে যা কষ্টকর তা তিনি চান না’ (সূরা বাকারাহ-১৮৫)।

আরও এরশাদ হচ্ছে, ‘তিনি (আল্লাহ রাব্বুল আলামিন) দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেন নাই...’ (সূরা হজ-৭৮)। নিম্নোক্ত হাদিসটিও উপরোক্ত আয়াত দুটির সপক্ষের দলিল : ইমাম বোখারি (রহ.) তাঁর সহিহ বোখারিতে হাদিসটি উল্লেখ করেন, হজরত রসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দীন সহজ এবং যে কেউ দীনকে নিজের জন্যে কঠিন করে ফেললে সে তা আর পালন করতে পারবে না। সুতরাং, তোমাদের উচিত হবে না (দীনের ব্যাপারে) চরম পন্থা অবলম্বন করা। বরং সাধ্যমতো নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর যে তোমরা প্রতিদান প্রাপ্ত হবে এবং সকালে ও রাতে ইবাদতের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় কর।’ মৌলিকভাবে ইসলাম মেনে চলা যে কঠিন কিছু নয় তার প্রমাণ হলো, ইসলামে পার্থিব সব কিছুই অনুমোদিত যদি তা কোরআন-সুন্নাহ তথা শরিয়ত বিরোধী না হয়। ইসলাম কোনো দুনিয়া বিমুখ জীবন ব্যবস্থার নাম নয় যে ইসলাম পালনকারীদের জন্য দুনিয়ার সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে নির্জনে বসে শুধু ধ্যান করতে হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (লা-রুহবানিয়্যাতা ফিল ইসলাম) অর্থাৎ ইসলামে বৈরাগ্য বাদিতার কোনো স্থান নেই। বরং ইসলাম মানুষকে এক স্বাভাবিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের পথে উৎসাহিত করে যেখানে একজন ব্যক্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নির্ধারিত সীমারেখার ভিতরে থেকে সামাজিক জীবন যাপন করবে, তার প্রতি ইসলামের যে হক রয়েছে তা যথাযথভাবে আদায় করবে, সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সৃষ্টিকুলের প্রতি তার হক আদায় করবে। আরও দেখুন, ইসলাম সব সৃষ্টিকুলের অধিকার নিশ্চিত করেছে; অন্যায়ভাবে কোনো মানুষ বা জীবজন্তু বা গাছপালা এমনকি নিজের ক্ষতি হয় এমন কিছু করা যাবে না। ইসলামের মৌলিক শিক্ষার মধ্য হতে একটি অন্যতম শিক্ষা হলো, মানবজাতিকে যে কোনো মূল্যে সব ধরনের অন্যায় ও অপকর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে। এমনকি যেসব কাজকর্ম মন্দের পথে চালিত করে সেগুলো থেকেও বিরত থাকতে হবে। একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের কিছু মৌলিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য আছে সেগুলো পালন করতে হবে। আল্লাহতায়ালা ইসলামকে স্বভাবগতভাবে এত সহজ করে দিয়েছেন যা প্রতিটি মানবের মেজাজ মর্জির সঙ্গে শত ভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এভাবে ইসলাম মানুষের সাধ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় না। যেমনটি পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ কারও সাধ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেন না’ (সূরা বাকারা-২৮৬) আমরা দেখি, অনেকের কাছে ইসলাম মেনে চলা এত কঠিন মনে হওয়ার একটি কারণ হলো, শয়তান তাদের কাছে খারাপ এবং মন্দ কাজগুলোকে অত্যন্ত মোহনীয় করে উপস্থাপন করে এবং সৎকর্মগুলোকে কঠিন ও বিরক্তিকর করে উপস্থাপন করে। ফলে তারা সৎকর্ম সম্পাদনের ব্যাপারে অনীহা ও অনাগ্রহ বোধ করে। এতদসত্ত্বেও কেউ যদি শয়তানি ওয়াস-ওয়াসাকে পেছনে রেখে ইসলাম পালনের ব্যাপারে সচেষ্ট হয় তাহলে ইসলাম যে সমস্ত কাজগুলোকে ভালো বলে সেগুলো করা তার জন্য কোনো কঠিন কিছু মনে হবে না এবং কাজগুলো করে সে মনের ভেতর এক অকৃত্রিম সুখ অনুভব করবে। ফলে মন্দ আর পাপের কাজগুলো তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষার মধ্য হতে শ্রেষ্ঠতম শিক্ষা হলো, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদত করা অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরিক না করা, দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, বছরে মাত্র একটি মাস সাওম বা রোজা রাখা, বছরান্তে একবার উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ জাকাত হিসেবে দান করা, সামর্থ্যবান হলে জীবনে একবার হজ করা এবং সাধারণভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সমস্ত সৃষ্টিকুলের প্রতি সদ্য আচরণ করা, নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা এবং সৎ চরিত্র বজায় রেখে জীবন যাপন করা। প্রিয় পাঠক! দেখুন উল্লেখিত বিষয়গুলোর কোনো একটিও মেনে চলার জন্য একজন মানুষের সমর্থের বাইরে নয় বা অসম্ভব কিছু নয়। এমন একটি বস্তুও ইসলাম আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেনি যা আমাদের জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়। বরং লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে ইসলামে যা কিছু নিষিদ্ধ তার প্রত্যেকটিই মানুষের জন্য ক্ষতিকর। আরও লক্ষ্য করুন! রাব্বুল আলামিন হলেন দয়াময় পরম দয়ালু এবং পরম ক্ষমাশীল।

লেখক : মুহাদ্দিস, মুুফাসসির, খতিব ও টিভি উপস্থাপক।


আপনার মন্তব্য