শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২১

রোহিঙ্গা অপতৎপরতা

কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করুন

Google News

কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্রমান্বয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও হামলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। দেশের ধর্মীয় বিভিন্ন প্রেসার গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমার সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়। আশ্রয়প্রাপ্তরা বাংলাদেশে এসে মাদক, নারী ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত হবে; সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাবে; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হবে- এজন্য তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়নি। কিন্তু এমন অপরাধই প্রতিনিয়ত করে চলেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের কুতুপালং শিবিরের কাছে একটি বাজারের দখল নিয়ে রোহিঙ্গাদের দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কালো হাফপ্যান্ট পরা এবং কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো দুই পক্ষের হাজার হাজার রোহিঙ্গা সমর্থক দা-কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে তারা। এ অবস্থায় পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। নিজেদের বাঁচাতে সেনাবাহিনীর কাছে বার্তা পাঠায়। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে রোহিঙ্গারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে। এ ঘটনার জেরে গত রবিবার দুপুরে আবারও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ দুটি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় বেশকিছু রোহিঙ্গা শেডে ভাঙচুর চালানো হয়। যে বাজারটিরও দখল নিয়ে রোহিঙ্গাদের দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে সেটি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার আখড়া হিসেবে পরিচিত। বিএনপি-জামায়াত আমলে সেটি একটি মাঠ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে, যার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যেহেতু দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে সেহেতু তাদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। মিয়ানমার তাদের নিতে না চাইলে জাতিসংঘ এবং যেসব দেশ বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য করেছে তাদের দায় নিতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রিতরা কেউ যাতে এ দেশের মাটিতে রোহিঙ্গাপনার দুঃসাহস দেখাতে না পারে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া নজরদারি বজায় রাখতে হবে।