শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪৯

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

জননিরাপত্তা যেন উপেক্ষিত না হয়

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর এফআর টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজারে আগুন লেগে দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো ঘটনা না ঘটলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় শতাধিক পরিবারের কয়েক শ মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস। ভয়াবহ আগুন পাশের গুলশান শপিং সেন্টারের তিন তলার দুটি দোকানেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্মর্তব্য, প্রায় ২৭ মাস আগে গুলশানের একই মার্কেটে আগুন লেগে বিপুলসংখ্যক দোকান ভস্মীভূত হয়। সে সময় আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ছাড়া মার্কেট চালাতে নিষেধ করা হয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সুপারিশে। মার্কেট কমিটি সে সুপারিশকে পাত্তা দেওয়ার কোনো চেষ্টাই করেনি। আগুন লাগলেও অল্পের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি। ভোরে আগুন লাগায় রাস্তায় মানুষের ভিড় না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে গুলশান শপিং সেন্টারও ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ার বিপদ ঘটত। গুলশানের কাঁচাবাজারে আগুন লেগে দেড় শর বেশি দোকান ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনা রাজধানীর ঘিঞ্জি বাজারগুলোর হালহকিকত সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করেছে। এসব বাজার ও মার্কেটে কোনোভাবে আগুন লাগলে তা যে বিপর্যয়কর অবস্থার উদ্ভব ঘটাবে, এ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। আমরা আশা করব, জননিরাপত্তার স্বার্থেই সরকার এবং সিটি করপোরেশন সব ধরনের ভবন ও বিপণি কেন্দ্রে যাতে আগুন নেভানোর যথাযথ ব্যবস্থা থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে যতœবান হবে। বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি হলে ভবনের মালিক বা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত আবাসন কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবতে হবে। চকবাজারের চুড়িহাট্টা ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের জননিরাপত্তা সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে; যার পুনরাবৃত্তি রোধে ভবন ও বিপণি কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন অনুসরণের বদলে কিছু লোভী মানুষের লোভ যাতে প্রশ্রয় না পায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।


আপনার মন্তব্য