শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০১৯ ২২:৩৬

এসএসসির ফল প্রকাশ

শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফল প্রকাশ পেয়েছে এবং ফলাফল অনুযায়ী চলতি বছর পাসের হার প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বাড়লেও জিপিএ-৫-প্রাপ্তির হার কমেছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৮২.২০ শতাংশ শিক্ষার্থী, অথচ গত বছর এ হার ছিল ৭৭.৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি ফলপ্রার্থী। জিপিএ-৫ নামের সোনার হরিণ কম ধরা পড়লেও আশাজাগানিয়া দিক হলো, এ বছর সারা দেশের ২ হাজার ৫৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ কম। তবে হতাশার দিক হলো, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছরও একই ধরনের ব্যর্থতা দেখিয়েছে ১০৯টি প্রতিষ্ঠান। দেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় কতটা পড়াশোনা করানো হয় তা একটি প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখা এবং এগুলোর পেছনে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় করার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাফল্য বেশি। ছেলেদের একাংশ যে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠছে এটি তারই অশনিসংকেত। এ বছর মেয়ে শিক্ষার্থীদের পাসের হার যে ক্ষেত্রে ৮৩.২৮ শতাংশ সে ক্ষেত্রে ছেলে শিক্ষার্থী পাস করেছে ৮১.১৩ শতাংশ। ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫-প্রাপ্তির সংখ্যাও বেশি। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। জিপিএ-৫-প্রাপ্তির র‌্যাট রেস কিছুটা স্তিমিত হওয়াও ভালো খবর বইকি। তবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস না করা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার হতশ্রী অবস্থাই তুলে ধরেছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। এসএসসি পরীক্ষায় তাদের সাফল্যকে আমরা অভিনন্দন জানাই। আশা করতে চাইÑ শুধু পাস করা নয়, মানুষের মতো মানুষ হওয়াকে তারা নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার মানসিক প্রস্তুতি নেবে এখন থেকে। সব শিক্ষার্থীর জন্য আমাদের শুভ কামনা।


আপনার মন্তব্য