Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০৫

বিনয় মানবচরিত্রের ভূষণ

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

বিনয় মানবচরিত্রের ভূষণ

বিনয়, নম্রতা মানুষের অন্যতম মহৎগুণ। চরিত্রকে সুষমামন্ডিত করার ক্ষেত্রে এ গুণের বিকল্প নেই। দৈনন্দিন আচারে বিনয়ের প্রকাশ ঘটাতে পারলে ঔদ্ধত্য ও অহংবোধ  জীবনকে ধ্বংস করতে পারে না। অন্যকে নিজের তুলনায় বড় মনে করার নাম বিনয়। এটি উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। বিনয় ও শিষ্টাচারে বরকত ও কল্যাণ নিহিত আর রূঢ়তা ও রুক্ষতায় রয়েছে অশুভ ও অকল্যাণ। জীবনকে মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত করার অনিবার্য সোপান হলো বিনয় ও কোমলতা। বিনয়ের মর্মার্থ হলো ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বংশনির্বিশেষে প্রতিটি মানবসন্তানের সঙ্গে নম্র্রতা, কোমলতা, মার্জিত ও ভদ্রজনোচিত ব্যবহার করা। বংশপরিচয় বা অর্থবৈভব নিয়ে কোনো মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান না করা। কোনো ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করা। আল্লাহতায়ালা যদি কাউকে উচ্চমর্যাদা, পদ-পদবি ও বিত্তপ্রাচুর্য দান করেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করা।  মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ বিনয়ী ব্যক্তিকে যা দান করেন, কঠোর ব্যক্তিকে তা দান করেন না। আল্লাহ কাউকে ভালোবাসলে তাকে বিনয়ী করে দেন। যে পরিবার কোমলতাশূন্য, তারা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। জেনে রেখো, কথায়, কাজে এবং অন্তরে কোমল স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করা হয়েছে।’ আত তারগিব ওয়াত তারহিব।

একজন ইমানদারের দায়িত্ব হচ্ছে অমর্যাদা ও অসম্মানের পথ পরিহার করে বিনয় ও নম্রতায় অভ্যস্ত হওয়া। এর অনুশীলন ও চর্চা অত্যন্ত জরুরি। বিনয় ও কোমলতা পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়, অহংকার ও আত্মগৌরব পতন ঘটায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পৃথিবীতে দম্ভ করে চোলো না; তুমি মাটিতে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড়সমান পৌঁছতে পারবে না।’ সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৩৭। ইমানদার ব্যক্তি মাত্রই সরল ও ভদ্র, নাকে রশি লাগানো উটের মতো সরল, সহজ ও কোমল স্বভাবের হয়। যেদিকে টানা হয় সেদিকে চলে। পক্ষান্তরে পাপী ও অপরাধী হয় ধূর্ত ও হীন চরিত্রের। যাদের মেজাজ নরম, স্বভাব কোমল, আচরণ সহজ ও মিশুক প্রকৃতির তারা হাদিসের ভাষ্যমতে উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাদের আমলনামায় দিনের বেলা রোজা ও রাতের বেলা নফল ইবাদতকারীর সওয়াব লিপিবদ্ধ হয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘উত্তম চরিত্রের পূর্ণতার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।’

তাঁর ২৩ বছরের নবুয়তি জীবন ছিল অহংকারমুক্ত। এক কথায় তিনি ছিলেন বিনয় ও সৌজন্যতাবোধের মূর্তপ্রতীক। ছোট বাচ্চাদেরও তিনি সালাম দিতেন। তিনি কৈশোরে মক্কায় ছাগল চড়িয়েছেন, যৌবনে মক্কার সারাফ নামক এলাকায় কৃষিকাজ করেছেন, নিজ হাতে জুতা সেলাই করেছেন, ছাগলের দুধ দোহন করেছেন এবং সাংসারিক কাজকর্মে স্ত্রীদের সহায়তা করেছেন। ধনী-দরিদ্র প্রত্যেকের দাওয়াত কবুল করতে দ্বিধা করতেন না। এমনকি কেউ যদি ছাগলের পায়া দিয়ে রুটি খাওয়ার দাওয়াত দিতেন তাও তিনি আগ্রহভরে গ্রহণ করতেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ ওহি পাঠিয়ে আমাকে পারস্পরিক বিনয় প্রদর্শনের, অহংকার থেকে বিরত থাকার এবং বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যারা বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ তাদের উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করেন’। রিয়াদুস সালেহীন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

ওমর গনি এমইএস ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রাম।


আপনার মন্তব্য