শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:২৪

বিচিত্রতা

সাহিত্য সাধনা

সাহিত্য সাধনা

পাঠশালার পাঠ শেষ করে সবে বিভূতিভূষণ হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছেন। ঠিক তখনই পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারালেন। বিভূতির মা তাদের পরিবারের অন্য ছোট ছোট ভাইবোন নিয়ে সুরাতিপুরে বাবার বাড়ি চলে গেলেন। বড় ছেলে বিভূতি কী করবে? পড়ার পাট সাঙ্গ করে ফিরে যাবে গ্রামে? না, কিছুতেই না। বোর্ডিংয়ে খরচ চালাচ্ছেন সহৃদয় প্রধান শিক্ষক চারুবাবু। চারুবাবু জানেন অতি মেধাবী ছাত্র বিভূতি। কিন্তু চারুবাবু বিভূতিকে পছন্দ করেন অন্য কারণে। নানারকম বই পড়েন বিভূতি। চারুবাবু বিলক্ষণ বুঝতে পারেন, এই ছেলে জীবনে সফল হবেই। চারুবাবুর সুপারিশে ডাক্তার বিধুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিভূতির আহার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা হলো, তবে শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো- বিভূতিকে ডাক্তার সাহেবের ছেলে জামিনীভূষণ ও মেয়ে শিবরানী- এ দুজনকে পড়াতে হবে। বিভূতিভূষণ সানন্দে সেসব শর্তে বাড়িতে থাকতে রাজি হলেন। বিধু ডাক্তারের বাড়ির পাশেই মন্মথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। আর এ বাড়ির একটি নতুন আকর্ষণ হলো এখানকার একটি ক্লাব, নাম- ‘লিচুতলা ক্লাব’। এ ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মন্মথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজেই শুধু সাহিত্য রচনা করেন না, উপরন্তু ‘বালক’ ও ‘যমুনা’ নামের দুটি সাহিত্য পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক। বিভূতিও অবিলম্বে সেগুলোর অনুগ্রাহক হয়ে গেলেন। একেকটি সংখ্যা লিচু ক্লাবে আসতেই গোগ্রাসে তার প্রতিটি লেখা পাঠ, আলোচনা, বিচার চলতে থাকে পুরোদমে। বিখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু শৈশব ও যৌবন কাটিয়েছিলেন ঢাকার পুরানা পল্টনে। স্কুলজীবনে তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে শুধু হাতে লিখে প্রকাশ করতেন ‘প্রগতি’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা। চিন্তা করে বিস্মিত হতে হয় যে শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি কতটা আত্মত্যাগ ও অনুরাগ থাকলে শুধু হাতে লিখে টানা দুই বছর একটি পত্রিকা প্রকাশ করার মতো মহৎ কাজে ব্যাপৃত থাকা যায়।


আপনার মন্তব্য