শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৬

সংকটের গহিন অরণ্যে বিএনপি

মহিউদ্দিন খান মোহন

সংকটের গহিন অরণ্যে বিএনপি

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আখতার-উল আলম কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘সবার বছর যায় বারো মাসে, আর বিএনপির বছর যায় আঠারো মাসে’। এ কথার দ্বারা তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব বা সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিই ইঙ্গিত করেছিলেন। বস্তুত, এই বিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা বিএনপিকে সময়ে সময়ে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচি পরমুহূর্তে বাতিল করা, দলের সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করা বিষয়কে পরদিনই ভুল বলে আখ্যায়িত করা ইত্যাদি কারণে দলটির নেতৃত্বের পারদর্শিতা নিয়েই অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর ফলে দলটি ক্রমান্বয়ে পশ্চাদপদ হয়েছে বলে মনে করে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল সম্মেলন হবে- এমন একটি খবরে অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তার আগে জেলা-উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনেরও কথা ছিল। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে- এমন কথাও প্রচার করা হয়েছিল দলটির পক্ষ থেকে। এসব কারণে দলের নেতা-কর্মীরা আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তাদের সে আশার গুড়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে একমুঠো বালি। শেষ খবর হলো- চলতি বছরে বিএনপির সেই কাউন্সিল হচ্ছে না। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘হচ্ছে না বিএনপির কাউন্সিল’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নেতা-কর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে হতাশা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আগামী বছর তাকেসহ কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দলের ৮১টি সাংগঠনিক জেলা পুনর্গঠনের টার্গেট রয়েছে দলটির। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। তবে সে পরিকল্পনা কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে, নাকি ‘পরি’ উড়ে গিয়ে শুধু ‘কল্পনা’ পড়ে থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেননা, এ ধরনের অনেক পরিকল্পনা বিএনপি এর আগে নিলেও কোনোটিই সাফল্যের মুখ দেখেনি। কমিটি পুনর্গঠনের কথা বলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কয়েকটি পদে নাম ঘোষণা করার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির দেখা আর পাওয়া যায়নি। বিএনপি ওইসবের নাম দিয়েছে ‘সুপার ফাইভ’, ‘সুপার সেভেন’ কমিটি। গঠিত সেসব সুপার ফাইভ-সুপার সেভেন কমিটি বছরের পর বছর বহাল থাকছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের খবর হয়ে গেছে লাপাত্তা। এমনকি ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের দুই সদস্যবিশিষ্ট আরেক সুপার কমিটি গঠনের পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো খবর নেই।

এরই মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো তা নেতা-কর্মীদের হতোদ্যম করে দিতে পারে বলে মনে করছেন দলটির শুভানুধ্যায়ীরা। এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ভোটের মাধ্যমে সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সর্বত্র সব কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পুরোপুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় সম্মেলন হবে।’ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথায় দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা কতটুকু আশ্বস্ত হবেন বলা মুশকিল। কারণ, তাদের আশঙ্কা জেলা-উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের নামে দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে জাতীয় কাউন্সিলকে আটকে ফেলা হতে পারে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের উল্লিখিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনেকেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় আমাকে বলেছেন, বর্তমান কমিটিতে যেসব অযোগ্য, অথর্ব ও টাকার বিনিময়ে পদ ক্রেতা নেতা রয়েছেন, তারা আগামীতে বাদ পড়ার আশঙ্কায় কাউন্সিল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তারা ২০১২ সালের কাউন্সিল ভ-ুল হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা বলেন, ২০১৩ সালের শুরুতেই কাউন্সিল হওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। ঠিক তার আগ মুহূর্তে পার্টি অফিসের সামনে জনসভায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে অফিসে পুলিশের আক্রমণকে কাউন্সিল পিছিয়ে দেওয়ার অজুহাত হিসেবে দেখানো হয়। তারা বলেন, পুলিশ অফিসে ঢুকে কোনো কাগজপত্র নেয়নি। তাহলে কেন কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছিল? অনেকেই মনে করেন, সেবারও কমিটি থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় দলের একটি চক্র পুলিশি অভিযানকে অজুহাত হিসেবে কাজে লাগিয়ে কাউন্সিল অধিবেশন স্থগিত করে নিজেদের আসন অন্তত আরও তিন বছর টিকিয়ে রাখার সুযোগ পেয়েছিল। বলাই বাহুল্য, সে কাউন্সিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এবারও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আকার গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট করা হবে- এ খবর প্রকাশের পর যাদের বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা কাউন্সিল যাতে না হয় সে চেষ্টায় রত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

অন্যদিকে চেয়ারপারসনকে নিয়ে কাউন্সিল করার যে চিন্তাভাবনা করছেন দলটির নেতারা, তা কতটা সম্ভব হবে এ নিয়েও সংশয় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দলটি তাদের শীর্ষ নেত্রীকে মুক্ত করতে পারবে কিনা তা একটা বিরাট প্রশ্ন। আর এ বিষয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা অনেকটাই হতাশ। কারণ, দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। এই সময়ের মধ্যে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাঁর মুক্তির বিষয়ে নানা কিসিমের কথা শোনালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হম্বিতম্বিকে তৃণমূল কর্মীরা এখন বায়বীয় আস্ফালন বলেই মনে করেন। আইনের মাধ্যমে নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়- নীতিনির্ধারকদের এহেন মন্তব্য তাদের কেবলই হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করে। আর আন্দোলনের মাধ্যমে চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে অনেকেই সন্দিহান। কেননা, সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করার মতো দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের দ্বারা যে একেবারেই অসম্ভব তা সবাই বুঝে গেছেন।

সম্প্রতি বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ জোরালোভাবেই উঠে এসেছিল। কয়েকটি ঘটনা এবং নেতাদের কথায় মনে হয়েছিল সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ফলস্বরূপ খালেদা জিয়া হয়তো সহসাই মুক্ত হয়ে আসবেন। বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ১ অক্টোবর দলের যুগ্মমহাসচিব হারুনুর রশীদ এমপির নেতৃত্বে বিএনপির তিন এমপির বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর। এর পরদিন হারুনুর রশীদ এমপি দেখা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে। একই দিন বিএনপির অন্য চারজন এমপিও দেখা করেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে খবর চাউর হয় যে, খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হচ্ছে। পত্রিকায় এমন খবরও বেরিয়েছিল, বিএনপি এমপিদের ‘মানবিক’ আবেদনে সরকারপক্ষে নমনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে এবং জামিনে বেরিয়ে এসে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে রাজিও হয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার ফানুস চুপসে যায় ৩ অক্টোবর একটি পত্রিকার খবরে। তাতে বলা হয়, কারাবন্দী খালেদা জিয়ার জামিন ও চিকিৎসার জন্য দেশত্যাগের বিষয়ে আগের মতো কঠোর অবস্থানেই রয়েছে সরকার। ২ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেমন ইঙ্গিত দেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। পত্রিকার খবরে বলা হয়, বৈঠকে একজন নেতা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী ‘নো কমপ্রোমাইজ’ শব্দটি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন আছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কোনো অপরাধীর জন্য কোনো কমপ্রোমাইজ হবে না।’ একই দিন অন্য এক খবরে বলা হয়, দলীয় এমপিরা সাক্ষাৎকালে প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্যারোল এবং পরে বিদেশে যাওয়ার পক্ষে মত দিলেও নাকচ করে দেন খালেদা জিয়া। পরে এ বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো কথাবার্তা শোনা যায়নি। অবশ্য মাঝেমধ্যেই বিএনপি নেতাদের ‘কঠোর আন্দোলনে’র মাধ্যমে নেত্রীকে মুক্ত করে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে দেখা যায়। তবে তা ইথারেই সীমাবদ্ধ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেল। ফলে দলনেত্রীকে মুক্ত করে তাকেসহ কাউন্সিল করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে।

এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর কথা শোনা যাচ্ছিল। সপ্তম কাউন্সিল সামনে রেখে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার পরও কর্মীদের মনোবল ঠিক রাখতে দলটি নানাবিধ উদ্যোগ নিতে চাচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের নিষ্ক্রিয় নেতাদের ব্যাপারে কঠোর হতে যাচ্ছেন বিএনপি হাইকমান্ড। ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর এসব নেতাকে সক্রিয় করার অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। তাই তাদের দলের সাইডলাইনে রেখে ত্যাগী আর রাজপথের নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। নেতা-কর্মীদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, নানা কারণে দলের অনেক নেতা দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে সরে আছেন। কেউ কেউ দলত্যাগও করেছেন। এর কারণ হিসেবে কর্মীরা বলছেন, ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর অযোগ্য অনেককে পদ-পদবি দিয়ে খুশি করা হয়। কিন্তু পদ-পদবি পাওয়ার পরই তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। অন্যদিকে দলকে সুসংগঠিত করতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় কথিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের পুনরায় দলে এনে সক্রিয় করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি- এমন একটি খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য সংস্কারপন্থি নেতাদের ব্যাপারে বিএনপির একটি অংশের মনোভাব এখনো কঠোর। নেত্রীকে মাইনাস করতে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে রাজি নন ওই সময়ের ত্যাগী ও সোচ্চার নেতারা। ফলে সংস্কারপন্থিদের দলে ভেড়ানোর উদ্যোগ হিতে বিপরীত হয় কিনা বলা যায় না। এর ফলে দলে নতুন করে বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন অনেকে। অন্যদিকে জোটগত বিষয় নিয়েও স্বস্তিতে নেই বিএনপি। ২০-দলীয় জোটের শরিকদের চাপ রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার। আবার ঐক্যফ্রন্ট বলছে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে। সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিকে পরামর্শ দিয়েছেন জামায়াতকে ‘তালাক’ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে রাজপথে এসে দাঁড়াতে। তা না হলে দলনেত্রীর মুক্তি আসবে না- এ কথাও বলেছেন তিনি। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোট নিয়ে বিএনপি ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে দলটির শুভানুধ্যায়ীরা চিন্তিত। তারা মনে করেন, এলোমেলোভাবে পথ চলতে গিয়ে দলটি বার বার পথ হারিয়ে ফেলছে। পথ খুঁজে পাওয়ার পরিবর্তে তারা ক্রমেই সমস্যা-সংকটের গহিন অরণ্যে প্রবেশ করছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক পথের দিশা তারা কবে পাবে বা আদৌ পাবে কিনা তা শুধু ভবিতব্যই বলতে পারে।

                লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 


আপনার মন্তব্য