শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৫

কিডনি রোগের আগ্রাসন

জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে

কিডনি রোগের আগ্রাসন

কিডনি ক্রমান্বয়ে জীবনঘাতী রোগে পরিণত হচ্ছে। দেশের প্রতি ৯ জনের একজন মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হয়। তাদের অধিকাংশই মৃত্যুবরণ করে চিকিৎসার অভাবে। কিডনি ডায়ালাইসিস কিংবা সংযোজন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষ এ রোগের সামনে অসহায়। প্রায় ৮০ ভাগ কিডনি রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই। শনিবার রাজধানীতে কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য খুবই প্রাসঙ্গিক। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আক্রান্তদের কিডনি একসময় সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। তখন ডায়ালাইসিস বা কিডনি সংযোজন ছাড়া বাঁচার উপায় থাকে না। এ দুটো চিকিৎসা পদ্ধতিই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অথচ বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মানসম্মত কিডনি রোগ চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। এর কারণ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব। বিশ্বে বর্তমানে ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয় ও ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ এ ঘাতক রোগে মারা যায়। দেশে প্রায় ৪০ হাজার রোগী দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে কিডনি রোগ বিস্তারের পেছনে নানা কারণ জড়িত। ঘাতক এ রোগ কিডনির সর্বনাশ ডেকে আনে কোনো উপসর্গ ছাড়াই। কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এ রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও কায়িক শ্রম, অতিরিক্ত লবণ, ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবারসহ ধূমপান বর্জন করার দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত ভেজাল ও ক্ষতিকর খাবার থেকে বিরত থাকলে কিডনি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। দেশে সাম্প্রতিককালে কিডনি চিকিৎসায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। কিডনি সংযোজনের মতো জটিল অস্ত্রোপচারও বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে। তবে আইনগত জটিলতা এক্ষেত্রে বাধা হয়ে বিরাজ করছে। ফলে এ দেশের রোগীরা বিদেশে গিয়ে কিডনি সংযোজন করছে। তাদের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে বিরাজ করছে আইনগত জটিলতা। কিডনি যেহেতু ঘাতক রোগ হয়ে আবির্ভূত হচ্ছে সেজন্য  এ ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।  যা বিপদ এড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক।


আপনার মন্তব্য

close