শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৩

শীতার্তদের বস্ত্র সাহায্য দিলে জান্নাতি পোশাক মিলবে

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

শীতার্তদের বস্ত্র সাহায্য দিলে জান্নাতি পোশাক মিলবে

আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই ঋতুর পালাবদল ঘটে। প্রকৃতির আচরণ মানুষের অসহায়ত্বকে আরও বড় করে দেখিয়ে দেয়। হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। প্রচন্ড  শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য হতদরিদ্র অনেক মানুষেরই নেই ন্যূনতম শীতবস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধপথ্য, উপযুক্ত আশ্রয় বা বাসস্থান। হাড়কাঁপানো শীতে তাদের কাউকে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হয়। ছিন্নমূল অসহায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত মোকাবিলার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তাই সবার প্রতি দরদি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শীতার্ত মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের সাহায্য-সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি। নিঃস্বার্থভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করাই ইসলামের শিক্ষা। এ মহৎ ও পুণ্যময় কাজই সর্বোত্তম ইবাদত।

তীব্র শীতের প্রকোপে নিদারুণ কষ্ট ও দুঃসহ অবস্থায় পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে দেশের লাখ লাখ গরিব, দুঃখী, বস্ত্রহীন শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন সুচিকিৎসা, ওষুধপথ্য ও শীত মোকাবিলায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে শিশুরা গণহারে  শীতজনিত গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে শীতের দুর্ভোগে মৃত্যুর হারও বাড়বে। এজন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মত-নির্বিশেষে বিত্তবানদের শীতার্ত বস্ত্রহীন মানুষের পাশে অবশ্যই দাঁড়ানো উচিত। যারা মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাদের পরকালীন পুরস্কার সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে কাপড় দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের পোশাক দান করবেন। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল দান করবেন। কোনো মুসলমানকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি পান করালে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সিলমোহরকৃত পাত্র থেকে পবিত্র পানি পান করাবেন।’ আবু দাউদ।

দুর্যোগময় মুহূর্তে মন-প্রাণ খুলে আর্তমানবতার সেবায় সাহায্যের হাত বাড়ানোর মর্যাদা সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার জীবনে একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদগুলো দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহ তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন।’ মুসলিম। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ মুসলিম।

সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ীসহ সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থা ইচ্ছা করলে তাদের নিজ নিজ এলাকার শীতার্ত অসহায় গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ এবং বিতরণ করতে পারে। হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়ায় মানুষকে খাদ্য দান করেছে, কেয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে প্রশান্তিদায়ক খাদ্য দান করা হবে। যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য মানুষকে পানি পান করিয়েছে, তাকে কেয়ামতের দিন পানি পান করিয়ে তার পিপাসা দূর করা হবে। যে মানুষকে বস্ত্র দান করেছে, তাকে কেয়ামতের দিন বস্ত্র পরিধান করিয়ে শান্তিময় জীবন দেওয়া হবে।’ বায়হাকি। আমাদের সবার মাঝে পারস্পরিক মানবতাবোধ ও উদারনৈতিক মনমানসিকতা জাগিয়ে তোলার এখনই সময়। আল্লাহ আমাদের হৃদয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে দিন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দিন।

লেখক :  মুফাসসিরে কোরআন।


আপনার মন্তব্য