শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মার্চ, ২০২০ ২৩:২৩

খালেদা জিয়ার মুক্তি

এ মানবিক সিদ্ধান্ত অভিনন্দনযোগ্য

খালেদা জিয়ার মুক্তি

দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাড়ে ২৫ মাস পর শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান। বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দন্ডাদেশ ছয় মাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্ত হলো, এই সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্ত সব মহলের প্রশংসা অর্জন করেছে। দুই বছর এক মাস ১৫ দিন সাজা ভোগের পর এমন এক সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, যখন করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিশ্বজুড়ে চলছে উৎকণ্ঠা। নানা বিধিনিষেধে বাংলাদেশও রয়েছে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায়। কারা তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া ‘করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনের এক দিন পর সরকার এ সিদ্ধান্ত জানাল। এর বেশ আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার। সাজা স্থগিতের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম। বিএনপির পক্ষ থেকেও চেয়ারপারসনের কারামুক্তিতে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়। বেগম জিয়াকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি দেওয়া হবে- এমন একটি জল্পনা-কল্পনা চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যে দেনদরবার চালাচ্ছিলেন অবশেষে তা ফলপ্রসূ হলো। সারা দুনিয়া যখন করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত এবং বাংলাদেশেও যখন এ প্রাণঘাতী ভাইরাস আতঙ্কে অবরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তখন সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্ত সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে বিরোধী পক্ষের সমর্থন নিশ্চিত হবে। রাজনীতির চেয়ে ঊর্ধ্বে উঠবে মানবিক অনুভূতি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টিতেও তা অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতির ধকল মোকাবিলায় আস্থার পরিবেশ খুবই জরুরি।


আপনার মন্তব্য