শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ এপ্রিল, ২০২০ ২৩:৩০

খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

সামাজিক সংকট ঠেকানো জরুরি

খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ

সর্বগ্রাসী মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। গত তিন দশকে নানা কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়লেও বাংলাদেশে তার প্রতিক্রিয়া পড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মন্দায় লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব যে অনিবার্য অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হতে যাচ্ছে তার ভুক্তভোগী হবে প্রতিটি দেশ, প্রতিটি জাতি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে তার অপপ্রভাব অনুভূত হচ্ছে। টানা ১৭ দিন সাধারণ ছুটিতে বন্ধ কলকারখানা, অফিস-আদালত এবং উৎপাদন কেন্দ্র। আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে সাধারণ ছুটি। অফিস-আদালত, কলকারখানা খোলার পরও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবে তা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তৈরি পোশাকের ক্রেতা দেশগুলোর মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যে করোনা বিপর্যয়ে অনিবার্যভাবে কমবে তা এক বাস্তবতা। ভয়াল এ ভাইরাসের আগ্রাসন নিশ্চিতভাবেই একদিন থেমে যাবে। কিন্তু বিদ্যমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য অনেকাংশে মার খাবে। করোনাভাইরাস দুর্যোগ দেশের গরিব-দুঃখী মানুষের জীবনে ইতিমধ্যে মহাসংকট হয়ে দেখা দিয়েছে এবং এ মন্দাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। আগামীতে এ চ্যালেঞ্জের পরিসর বাড়তে পারে। সে পরিস্থিতিতে হয়তো অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ বন্ধ রেখে গরিব-দুঃখী মানুষের পেটে ভাত জোগানো সরকারের কর্তব্য হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যবিত্তদের কথাও সরকারকে ভাবতে হবে। তারা যে আয় করে তার এক বড় অংশ চলে যায় কর পরিশোধে। সংকট কমাতে কর রেয়াতের কথা ভাবতে হবে। খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়াও জরুরি। দেশের গরিব-দুঃখী মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার শতভাগ আন্তরিক সন্দেহ নেই। তবে তাদের কাছে সরকারের সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যাতে দুর্নীতি বাসা না বাঁধে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কঠোর মনোভাবের কথা বলেছেন। দেশবাসী প্রতি ক্ষেত্রে সে মনোভাবের প্রতিফলন দেখতে চায়।


আপনার মন্তব্য