শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৬

নদী দখল-দূষণ

সবার দায়বদ্ধ ভূমিকা কাম্য

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদ-নদী এ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। নদ-নদী যোগাযোগব্যবস্থায় রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। চাষাবাদের পানি সেচে নদ-নদীর ভূমিকা অসামান্য। নদ-নদী থেকে আহরিত মাছ দেশবাসীর আমিষ চাহিদার এক বড় অংশ মেটায়। দেশের নদ-নদীর দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যকে ব্যবহার করা গেলে পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হবে। অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, জনসচেতনতার অভাবে দেশের নদ-নদীগুলো অস্তিত্ব হারাচ্ছে। দখল ও দূষণের নির্মম শিকার দেশের ৭৭০টি নদ-নদী। এসব নদ-নদীর বিভিন্ন অংশে দখলবাজ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে অন্তত ৪৯ হাজার ১৩২ জন মানুষবেশী হায়েনা। নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি, কারখানা, রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও উপাসনালয়। নদ-নদী সুরক্ষায় নদী কমিশন গঠন করা হলেও তাদের অবস্থা ঠুঁটো জগন্নাথের মতো। নিজস্ব জনবল না থাকায় নদী উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল এ কমিশন। কিছু জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চললেও সপ্তাহ না যেতেই ফের দখল হয়ে যায় নদী। রাজনৈতিক চাপ, আর্থিক ও জনবল সংকটে জেলা প্রশাসনও নদী দখলমুক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। হাই কোর্টের রায়ে নদী দখলকে ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হলেও দখলবাজরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। নদী দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের অধীন প্রাথমিকভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হয়। নদী রক্ষা কমিশন থেকে সব জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। করোনাকালে নদী উদ্ধার বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা নদী দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহে আর্থিক বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিলেও এখনো মেলেনি পর্যাপ্ত অর্থ। দেশের নদ-নদী সুরক্ষায় জনবলের স্বল্পতা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হলেও আসল সমস্যা দায়বদ্ধতার অভাব। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও পালন করতে হবে নজরদারির ভূমিকা।

 


আপনার মন্তব্য