শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩২

শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী

শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা অপরিসীম। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোরআনুল ও হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে যা কিছু গড়ে উঠেছে তা সবই শ্রমের ফল ও শ্রমিকের কৃতিত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা একমাত্র আল্লাহর, মানুষ তার তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। সুতরাং এখানে মালিক-শ্রমিক সবাই ভাই ভাই। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে শ্রদ্ধা, স্নেহ, সৌহার্দ্য ও বিশ্বস্ততায় ভরপুর। শ্রমিক ও মালিকের অধিকার রয়েছে নিজ নিজ প্রাপ্য বুঝে পাওয়ার। বলা হয়েছে নিজ নিজ কর্তব্য পালনে দায়িত্বশীল হতে। শুধু মালিক-শ্রমিক নয়, বরং উভয়কে সুসংহত ও সহিষ্ণু আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম শ্রমের শ্রেণিবিন্যাসকে স্বীকার করলেও মানবিক মূল্যবোধ ও মৌলিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবাই সমান। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘এরপর নামাজ সমাপ্ত হলে জীবিকা অর্জনের জন্য তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ সুরা জুমা, আয়াত ১০। অন্যত্র বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।’ সুরা বালাদ, আয়াত ৪। তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোত্তম শ্রমিক সে যে দৈহিক দিক দিয়ে শক্ত-সমর্থ ও আমানতদার।’

পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে বহু নবী-রসুল এমনকি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সবাই শ্রমজীবী ছিলেন। প্রথম নবী আদম (আ.) নিজ হাতে চাষাবাদ করেন। হজরত লুত ও শিস (আ.) কৃষিকাজ করেন। হজরত শোয়াইব ও হারুন (আ.) পশু পালন করেন। হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। হজরত ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.) ছিলেন রাজমিস্ত্রি। হজরত ইয়াকুব ও মুসা (আ.) ছিলেন মেষপালক। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আমিও মজুরির বিনিময়ে মক্কাবাসীর ছাগল-ভেড়া চরিয়েছি।’ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবসা, কৃষি ও দীন চর্চাকে উৎসাহিত করেছেন। আবার মর্যাদার ক্ষেত্রে সব শ্রমিক সাধারণভাবে সমান- এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘শ্রমজীবী আল্লাহর বন্ধু।’ ইসলাম শ্রমিককে বলেছে দক্ষ, বিশ্বস্ত ও দায়িত্ববান হতে। কোরআনে আদর্শ শ্রমিক হিসেবে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের বৈশিষ্ট্য এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে পিতা! আপনি তাকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিন। নিশ্চয়ই আপনার শ্রমিক হিসেবে সে-ই উত্তম, যে সামর্থ্যবান ও বিশ্বস্ত।’ সুরা কাসাস, আয়াত ২৬। ইসলাম মালিক ও শ্রমিকের জন্য অভিন্ন খাবারের নির্দেশ দিয়েছে। নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তারা তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং যার ভাইকে তার অধীন করেছেন সে যেন তাকে তাই খাওয়ায় যা সে খায়। সে যেন তাকে কাপড় পরিধান করায়, যা সে পরিধান করে, তাকে সামর্থ্যরে অধিক কোনো কাজের দায়িত্ব দেবে না, যদি এমনটা করতে হয় তাহলে সে যেন তাকে সাহায্য করে।’ বুখারি। বেতন ও পারিশ্রমিক, কর্মজীবীর অধিকার ইসলাম দ্রুততম সময়ে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘প্রাপ্য আদায়ে ধনী ব্যক্তির টালবাহানা অবিচার।’ বুখারি। নবী ইরশাদ করেছেন, ‘অধীনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ ইবনে মাজাহ। ইসলাম শ্রমিক ও শ্রমিকের যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। একমাত্র ইসলাম ধর্মই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে মূলনীতি ও বিধান প্রবর্তন করেছে। আল্লাহতায়ালা আমাদের বোঝার ও মানার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইমাম ও খতিব কাওলার বাজার জামে মসজিদ দক্ষিণখান, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য