শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:৩৩

মৃত্যুর পরে সাওয়াব পাওয়ার আমল

মো. আবু তালহা তারীফ

মৃত্যুর পরে সাওয়াব পাওয়ার আমল

মৃত্যু কখন আসে আমরা কেউ বলতে পারি না। এই জগৎ সংসার রেখে পাড়ি দিতে হবে পরপারে। মৃত্যুর পর আর ভালো কাজ করার ক্ষমতা কারও থাকে না। তাই নিজ আমলনামায় কোনো ধরনের সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় না। কিন্তু দুনিয়ায় এমন কিছু আমল রয়েছে যা জীবনে করলে মৃত্যুর পর কবরেও সেই আমলের সাওয়াব পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে সহিহ মুসলিম শরিফের গ্রন্থে রয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না। তা হলোÑ ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দোয়া করে। আমরা প্রথমে জেনে নিই, সদকায়ে জারিয়া কী? সদকায়ে জারিয়া হলো, একটি বিশেষ আমল। যা মৃত্যুর পরে কবরে সাওয়াব পৌঁছাতে থাকবে। সদকা শব্দের অর্থ দান করা, আর ‘জারিয়া’ অর্থ অব্যাহত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে শরিয়তসম্মত এমন কল্যাণকর কাজে দান করা। মসজিদ-মাদরাসা তৈরি, এতিমখানা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, লেখাপড়ার জন্য পাঠাগারের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নির্মাণ করা, খাবার পানিসহ নলকূপের ব্যবস্থা করা, অভাবীদের অভাব দূর করা, প্রবাহিত পানির ব্যবস্থা করা, সঠিক ইসলামের পথে আহ্বান করা, ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য বই রচনা করা, মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করা, অন্যের উপকারের জন্য কাজ করলে মৃত্যুর পরে সাওয়াব পাওয়া যাবে। এমনকি যদি গাছ রোপণ করে মৃত্যুবরণ করে, সেই রোপণ করা মৃত ব্যক্তির আমলে সাওয়াব পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে একখানা হাদিস রয়েছে, হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো বৃক্ষরোপণ করে, আর তা থেকে কোনো ফল ব্যক্তি খায় তবে সেটি তার জন্য সদকা, কোনো হিংস্র প্রাণী খেলেও তা তার জন্য সদকা, যদি কেউ চুরি করে খায় তাও তার জন্য সদকা, কোনো পাখিও খায় তাও তার জন্য সেটি সদকা। এমনকি যদি কেউ তা কেটে ফেলে তাও সেটি তার জন্য সদকা। সহিহ মুসলিম। অন্যকে জ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর পর সাওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়। কেননা জ্ঞান মানুষের জন্য উপকারী এবং কল্যাণকর। যে জ্ঞান মানুষকে উপকার করে তা অন্যকে জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অন্যরা উপকার পায়। এই জ্ঞানের বিস্তার থাকে সর্বসময়ে। পবিত্র কোরআন ও হাদিস, ইমান-আমল ও হালাল-হারামসহ বিভিন্ন মাসয়ালা অন্যকে শিক্ষা দেওয়াসহ মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি, জান্নাতের পথে আসার শিক্ষা দেওয়া ও মানুষের কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান শিক্ষা এবং দুনিয়া পরিচালনা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দেওয়া অর্থাৎ যে জ্ঞান ইলম মানুষকে কল্যাণ ও হেদায়েতের দিকে নিয়ে যায়। এ ধরনের শিক্ষা দেওয়ার কারণে মৃত ব্যক্তি কবরে সাওয়াব পাবেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মানুষকে কোনো ইলম শিক্ষা দিবে, সে ওই ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমতুল্য প্রতিদান পাবে; অথচ আমলকারীর প্রতিদানে কোনো কমতি হবে না। ইবনে মাজাহ। মৃত্যুর পর সাওয়াব পাওয়া যাবে রেখে যাওয়া সন্তানদের মাধ্যমে। সন্তানদের ভালো কাজ তার মৃত পিতা-মাতার আমলে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য প্রতিটি পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তোলা। যেসব সন্তান মাতা-পিতা বেঁচে থাকা অবস্থায় যেমন অনুগত ছিল। পিতা-মাতার মৃত্যুর পরও তারা আল্লাহর ইবাদত করবে। অন্যের উপকারে নিজকে বিলিয়ে দিবে। সর্বদা মাতা-পিতার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আবু উমামাতা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর চারটি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে- ১. যে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিল তার সাওয়াব, ২. ভালো কাজ চালু করার ফলে তাকে যারা অনুসরণ করল তার সাওয়াব, ৩. যে ব্যক্তি এমন সদকা করল, যা প্রবহমান থাকে তার সওয়াব ও ৪. এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া- যে তার জন্য দোয়া করে। -মুসনাদ আহমাদ

            লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য