শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৬

অক্সিজেন সংকট

চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নিন

কভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় চলমান লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞ মহল কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়েছে। আইসিইউ বেডের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের। একজন সুস্থ মানুষ সারা জীবন মুক্ত বাতাস থেকে যে পরিমাণ অক্সিজেন টেনে নেয়, তার আর্থিক মূল্য কত? এ প্রশ্ন আপেক্ষিক, ক্ষেত্রবিশেষ অবান্তর। কারণ মুক্ত বাতাসের সুলভ অক্সিজেনের দরদাম নির্ধারণের মাপকাঠি কারও হাতে নেই। কিন্তু সেই অক্সিজেন যখন সিলিন্ডারবন্দী হয় তখন তার আর্থিক মূল্য ধরা হয়। রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট ওঠে এবং সেই সিলিন্ডারের যদি আকাল পড়ে তখন তার নির্ধারিত দাম আর নির্ধারিত জায়গায় থাকে না। দাম আকাশ ছুঁতে থাকে। রাজধানীর বাইরে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ৩ হাজার ২০০ এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী যেমন অক্সিজেন মাস্ক, ফ্লোমিটার, চাবি, ট্রলি আছে ২ হাজার ৭৩৯ সেট। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন সিলিন্ডার আরও দরকার ৩ হাজার ৪৫টি এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রী ৩ হাজার ১৮৯ সেট। দেশের চিকিৎসা খাতে অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে এর বড় একটি অংশ বছরজুড়ে আমদানি হয় ভারত থেকে। প্রতি মাসে শুধু বেনাপোল বন্দর দিয়েই প্রায় ৩০ হাজার টন অক্সিজেন আমদানি করা হয়। করোনাকালে আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে সম্প্রতি এ অক্সিজেনের চাহিদা আরও বেড়েছে। ভারত সংকটের কারণে বাংলাদেশে অক্সিজেন রপ্তানি করতে পারছে না। ১ হাজার ৪০০ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার মুখে দ্বিগুণ হয়েছে। সুতরাং অক্সিজেন সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। চাহিদা পূরণে দেশে অক্সিজেনের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।