শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০২১ ২৩:১৯

গোসলের গুরুত্ব ও ফজিলত

মুফতি মাহমুদুল হক জালীস

গোসলের গুরুত্ব ও ফজিলত
Google News

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। এমনকি ধর্মীয় সব হুকুম-আহকাম পালন পবিত্রতার ওপর নির্ভর করে। এজন্য ইসলামের পরিভাষায় পবিত্রতাকে ইমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। অতএব একজন মানুষকে পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করতে হলে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার নাপাকি থেকে পবিত্র হতে হবে। আল্লাহ কোরআনে পবিত্রতার কথা উল্লেখ করে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালোবাসেন।’ সুরা বাকারা। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কোনো মুসলিম অথবা মোমিন বান্দা অজু করে আর সে তার মুখ ধোয় তখন অজু অথবা অজুর পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে তার দুই চোখ দিয়ে করেছিল। যখন সে তার দুই হাত ধোয় তখন অজুর পানি অথবা অজুর পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গে তার উভয় হাত থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে তার হাত দিয়ে করেছিল। শেষ পর্যন্ত সে তার গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়।’ তিরমিজি। ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পন্থা রয়েছে। যেমন গোসল, অজু, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, দাঁত পরিষ্কার রাখতে মিসওয়াক করা, শরীরে ময়লা লাগলে ধুয়ে ফেলা ইত্যাদি।

গোসলের কয়েকটি প্রকার আছে-

ফরজ গোসল : ওই গোসলকে বলা হয় যা করা অপরিহার্য। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারও স্বপ্নদোষ হলে বা মেয়েরা মাসিক থেকে সুস্থ হলে অথবা স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গোসল ফরজ হয়। এসব থেকে পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা নাপাক হয়ে থাকো তবে গোসল কর।’ সুরা মায়েদাহ, আয়াত ৬। এ ছাড়া যেসব কারণে গোসল ফরজ হয় সেগুলো হলো : ১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে। ২. স্বপ্নের কথা স্মরণ থাকুক বা না থাকুক শরীরে, কাপড়ে বা বিছানায় বীর্যের চিহ্ন দেখতে পেলে। ৩. নারী-পুরুষ মিলনে সহবাসে বীর্যপাত হোক আর না-ই হোক। ৪. মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব (হায়েজ) বন্ধ হলে। ৫. নেফাস (সন্তান প্রসবের পর যে রক্তস্রাব হয় তা) শেষ হলে। ৬. ইসলাম গ্রহণ করলে (নওমুসলিম হলে)। ৭. স্ত্রী-পুরুষ কারও উত্তেজনার সঙ্গে বীর্য বের হলে ফরজ গোসল ছাড়া নামাজ হবে না। গোসল করারও সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। সে পদ্ধতি অবলম্বন না করলে পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। তাই গোসলের তিনটি ফরজ নির্ধারণ করা হয়েছে : ১. একবার কুলি করা ফরজ। ২. একবার নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে পরিষ্কার করা ফরজ। ৩. সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো ফরজ। এভাবে গোসলের সুন্নতের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে : ১. তিনবার কুলি করা সুন্নত। ২. তিনবার নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে পরিষ্কার করা সুন্নত। ৩. সমস্ত শরীরে তিনবার পানি ঢেলে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার করা সুন্নত।

লেখক : মুহাদ্দিস

খাদিমুল ইসলাম মাদরাসা

কামরাঙ্গীর চর, ঢাকা।