সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

কেউ ভালো নেই

ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালা দুই পক্ষই সংকটে

কেউ ভালো নেই এই করোনাকালে। ভালো না থাকার দলে আগে থেকেই ছিলেন ভাড়াটিয়ারা। ফি বছর ভাড়া বৃদ্ধির জন্য তারা থাকতেন চাপের মুখে। ভাড়া বৃদ্ধিতে প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হতো বাড়ি ছাড়ার নোটিস। করোনাকাল বাড়িওয়ালাদের সেই সুদিন কেড়ে নিয়েছে। মহামারীর আগ্রাসনে দুনিয়াজুড়ে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের চিত্রটিও খুব বেশি আলাদা নয়। করোনাকালে দেশের সিংহভাগ মানুষের আয় কমেছে। সরকারি কর্মচারী ছাড়া আর সবাই দুরবস্থার শিকার। ফলে যে রাজধানীতে ঘরভাড়া পেতে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি চালাতে হতো, সেখানে এখন চারদিকে টু-লেটের ভিড়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ‘টু-লেট’ বা ‘বাড়ি ভাড়া’র সাইনবোর্ড বেশি দেখা যাচ্ছে। অলিগলির রাস্তাঘাট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইনে বাড়ি ভাড়ার ওয়েবসাইটগুলোও ছেয়ে গেছে বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনে। ভাড়াটিয়ারা বেশি ভাড়ার বড় বাসা ছেড়ে স্বল্প ভাড়ার ছোট বাসা খুঁজছেন। ভাড়াটিয়া পরিষদের তথ্যানুযায়ী করোনাকালে মোট ভাড়াটিয়ার ৪০ শতাংশ ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। স্বভাবতই বাড়িওয়ালাদের অবস্থাও খারাপ। বিশেষ করে যারা বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চালান তাদের মাস চলছে না। বেকারত্ব এবং আয় কমে যাওয়ায় শুধু নিম্নবিত্তই নয়, ঢাকায় বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারও। ফলে তারা কম দামের বাসা খোঁজ করছেন বাধ্য হয়ে। রাজধানীর অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াদের ধরে রাখতে বাড়ি ভাড়া কমিয়েছেন গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটে না থাকায় আর্থিক দৈন্যে ভুগছেন। এটি এমনই এক সমস্যা যা বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়া দুই পক্ষেরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারপরও এ দুঃসময়ে অন্তত বাড়ির মালিকরা দুস্থ ভাড়াটিয়াদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই রকম আরও টপিক