শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদ

মো. আমিনুল ইসলাম

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদ

আরবি শব্দ ‘তাহাজ্জুদ’-এর আভিধানিক অর্থ হলো রাত জাগরণ বা ঘুম ত্যাগ করে রাতে নামাজ আদায় করা। শরিয়তের পরিভাষায় মধ্যরাতের পরে ঘুম থেকে উঠে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত আল্লাহ রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টির জন্য যে সালাত আদায় করা হয় সেটাই তাহাজ্জুদের নামাজ। তাহাজ্জুদ নামাজের ব্যাপারে আল কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।’ সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত ১-২। এখানে রসুল (সা.)-কে বিশেষভাবে সম্বোধন করে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের জন্য আদেশ করা হয়েছে। এ আয়াতের মূল আদেশ হচ্ছে কিছু অংশ বাদে সমস্ত রাতে সালাতে মশগুল থাকা। এ আদেশ পালনের জন্য রসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম প্রায় এক বছর অধিকাংশ রাতে তাহাজ্জুদের সালাতে ব্যয় করেছেন। পরে এ সুরার শেষে এসে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাহাজ্জুদের ফরজকে রহিত করে নির্দেশ শিথিল করে সহজ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ। আল্লাহর দয়া অপরিসীম। সুরা ফুরকানের ৬৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এবং তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রবের উদেশে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে।’ অর্থাৎ ইমানদাররা রাতযাপন করে তাদের পালনকর্তার সামনে সিজদারত অবস্থায় ও দন্ডায়মান অবস্থায়। সালাত আদায়ের জন্য রাতে দন্ডায়মান হওয়া যেমন কষ্টকর, তেমনি এতে লোক দেখানো ও খ্যাতি বা সুনামের আশঙ্কাও নেই। এর মাধ্যমে ইমানদাররা দিনে ও রাতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে।

‘তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, নিজেদের রবকে ডাকতে থাকে আশায় ও আশঙ্কায়।’ সুরা আস সাজদাহ, আয়াত ১৬।

আরও বলা হয়েছে, ‘এসব জান্নাতবাসী ছিল এমনসব লোক যারা রাতে সামান্যই ঘুমাত এবং ভোররাতে মাগফিরাতের দোয়া করত।’ সুরা আল জারিয়াত, আয়াত ১৭-১৮।

সুরা আজ জুমারের ৯ নম্বর আয়াতে বিবৃত হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি হয় আল্লাহর হুকুম পালনকারী, রাতের বেলা সিজদা করে ও দাঁড়িয়ে থাকে, আখিরাতকে ভয় করে এবং নিজের রহমতের প্রত্যাশা করে তার পরিণাম কি মুশরিকের মতো হতে পারে?’

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় কর, কেননা এটা তোমাদের পূর্ববর্তী সব নেককারের অভ্যাস ছিল। এটা তোমাদের আল্লাহতায়ালার নৈকট্য দানকারী, মন্দ কাজের কাফফারা, এবং গুনাহ থেকে নিবৃত্তকারী।’ ইবনে খুজাইমাহ, ১১৩৫। রসুল (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি এশার সালাত জামাতে আদায় করে সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদতে অতিবাহিত করে, এবং যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতে আদায় করে তাকে অবশিষ্ট অর্ধরাতও ইবাদতে অতিবাহিতকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।’ মুসলিম।

আল্লাহ বলেন, ‘আর রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ আদায় কর, এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত। আশা করা যায় তোমার রব তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭৯। সুরা আজ জারিয়ায় আল্লাহ আরও বলেন, ‘তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়, আর রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত।’ আয়াত ১৭-১৮।

রসুল (সা.) আট রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। সম্ভব হলে ১২ রাকাত আদায় করাও উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজ সুরা ফাতিহার পর বড় বড় আয়াত দিয়ে বা বড় সুরা পড়ে আদায় করা উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। দুই রাকাত করে আট বা ১২ রাকাত আদায় করা উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত অন্য যে কোনো নফল ইবাদাতের চেয়ে অতি উত্তম এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে অতীব পছন্দের। এ নামাজ আদায়ে আমরা সবাই যেন একে অন্যকে উৎসাহিত করি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে রাত জেগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন এবং তাঁর ক্ষমায় আমাদের সিক্ত করুন। তিনি পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার।