সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

মিয়ানমারে গোলাগুলি

বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে

মিয়ানমার সীমান্ত আবারও অশান্ত হয়ে ওঠা নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। সে দেশের সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানের সময় বিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও পড়ছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় গত শনিবারও দুটি গোলা এসে পড়ে। এর আগে তমব্রু সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির সময় গত ২৭ আগস্ট দুটি এবং ১ সেপ্টেম্বর একটি গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ে। মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে আবারও সহিংস অভিযান শুরু করেছে দেশটির সামরিক সরকার। রাখাইন রাজ্যের মংডুতে পুলিশ ফাঁড়ি দখল এবং ১৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের জেরে সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার বাহিনী। গত সপ্তাহে ফাঁড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় আরকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা। সেখানে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম লুট করে তারা। সেই সঙ্গে ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রচন্ড গোলাগুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও হেলিকপ্টার থেকে ফায়ারিংয়ের প্রচন্ড আওয়াজ সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু, তমব্রু ও কোণারপাড়া এলাকার মাটি কাঁপিয়ে তুলছে। জিরো লাইনের কাছাকাছি কোণারপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে চার হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। মিয়ানমারের বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় ভুগছে তারা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সাংঘর্ষিক অবস্থান সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কিছু বলার নেই। কিন্তু বিদ্রোহীদের দমন অভিযানের সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলাবর্ষণ নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক খবর। এ বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র দফতরে ডেকে এনে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজেপির নজরদারি। আমরা আশা করব দুই প্রতিবেশী দেশের সুসম্পর্কের স্বার্থে যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকান্ড থেকে মিয়ানমার বিরত থাকবে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর