শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

মামলাজট

এ দুর্ভোগের অবসান হোক

মামলাজটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের বিচারব্যবস্থা। এ অভিশপ্ত অবস্থার অবসান ঘটাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হলেও চোখে পড়ার মতো কোনো সাফল্য আসেনি। এর কারণ বিচারক স্বল্পতা। যে কারণে বিচারকদের সদিচ্ছা থাকলেও মামলা নিষ্পত্তিতে কাক্সিক্ষত গতি আনা যাচ্ছে না। দেশের অধস্তন আদালতে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৮ লাখ মামলা। আইনজ্ঞদের অভিমত, বিচারক স্বল্পতার পাশাপাশি আইনের ত্রুটি, সাক্ষী হাজির না হওয়াই মামলাজটের অন্যতম কারণ। এসব সমস্যা দ্রুত দূর করে পুরনো মামলা নিষ্পত্তিতে নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা। সুপ্রিম কোর্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলা ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৬১টি। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ১১৫টি দেওয়ানি এবং ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৬টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এ সময় সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৫টি। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের উভয় বিভাগে বিচারাধীন মামলা ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৭টি এবং অধস্তন আদালতে ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭৮টি মামলা ছিল। স্মর্তব্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দায়িত্ব নিয়েই পুরনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আট বিভাগের জন্য পৃথক আটটি মনিটরিং সেল গঠন করেন। প্রতি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতিকে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নিয়ে মনিটরিং সেলগুলো পুনর্গঠন করে বড় বিভাগগুলোর জন্য হাই কোর্ট বিভাগের দুজন করে বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। যাতে মামলা নিষ্পত্তিতে মনিটরিং সেল আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ৫-১০ বছরের পুরনো মামলা আর ঝুলিয়ে না রেখে কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে মনিটরিং সেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারক, আইনজীবীসহ আদালত-সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক ভূমিকার বিকল্প নেই। অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবীদের একাংশ নিজেদের স্বার্থে মামলা ঝুলিয়ে রাখেন। অভিযোগটি সত্য হলে এ প্রবণতা ঠেকাতে উদ্যোগী হতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে বিচারহীনতার দুর্ভোগ থেকে।

সর্বশেষ খবর