Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৬

নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র

মেহেরুন্নেসা খাতুন : সিনিয়র শিক্ষিকা

নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র

সারাংশ

১. কিসে হয় মর্যাদা? দামি কাপড়ে, গাড়িঘোড়া, না ঠাকুর-দাদার কালের উপাধিতে? না, মর্যাদা এসব জিনিসে নেই। আমি দেখতে চাই তোমার ভিতর, তোমার বাহির, তোমার অন্তর। আমি জানতে চাই, তুমি চরিত্রবান কি না, তুমি সত্যের উপাসক কি না? তোমার মাথা দিয়ে কুসুমের গন্ধ বেরোয়, তোমায় দেখলে দাস-দাসী দৌঁড়ে আসে, প্রজারা তোমায় দেখে সন্ত্রস্ত হয়, তুমি মানুষের ঘাড়ে চড়ে হাওয়া খাও, মানুষকে দিয়ে জুতা খোলাও, তুমি দিনের আলোতে মানুষের টাকা আত্মসাৎ কর। বাপ-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি তোমায় আদর করেন, আমি তোমায় অবজ্ঞায় বলব যাও।

সারাংশ : ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, অভিজাত ঘর মানুষের মর্যাদাকে জাগ্রত করে না; বরং এগুলো মানুষকে করে তোলে দাম্ভিক ও অহংকারী। প্রকৃত মর্যাদা অর্জিত করতে হলে চরিত্রবান, সত্যবাদী ও জ্ঞানী হতে হবে। এই মহৎ গুণাবলির অধিকারীরাই প্রকৃত মর্যাদার অধিকারী হয়, আর যারা এ আদর্শের নয়, তারা সমাজের কাছে অবজ্ঞার পাত্র।

প্রকৃত মর্যাদা অর্জিত করতে হলে চরিত্রবান, সত্যবাদী ও জ্ঞানী হতে হবে। এই মহৎ গুণাবলির অধিকারীরাই প্রকৃত মর্যাদার অধিকারী হয়, আর যারা এ আদর্শের নয়, তারা সমাজের কাছে অবজ্ঞার পাত্র।

২. বর্তমান সভ্যতায় দেখি, এক জায়গায় একদল মানুষ অন্ন উৎপাদনের চেষ্টায় নিজের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করছে, আরেক জায়গায় আরেক দল মানুষ স্বতন্ত্র থেকে সেই অন্নে প্রাণ ধারণ করে। চাঁদের এক পিঠে অন্ধকার, অন্য পিঠে আলো এ সেই রকম। একদিকে দৈন্য মানুষকে পঙ্গু করে রেখেছে, অন্যদিকে ধনের সন্ধান, ধনের অভিমান, ভোগবিলাস সাধনের প্রয়াসে মানুষ উন্মত্ত। অন্নের উৎপাদন হয় পল্লীতে, আর অর্থের সংগ্রহ চলে নগরে। অর্থ উপার্জনের সুযোগ ও উপকরণি সেখানেই কেন্দ্রীভূত; স্বভাবতই সেখানে আরাম, আয়েশ, আমোদ ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে অপেক্ষাকৃত অল্পসংখ্যক লোককে ঐশ্বর্যের আশ্রয় দান করে। পল্লীতে সেই ভোগের উচ্ছিষ্ট যা কিছু পৌঁছায়, তা কঞ্চিৎ।

সারাংশ : বর্তমান সভ্যতায় একদল মানুষের পরিশ্রমের ফল অন্য দলে ভোগ করে চলেছে। ফলে উৎপাদন ও পরিভোগে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। পল্লীর বিপুল জনগণ অন্ন উৎপাদন করেও আজ দারিদ্র্যকবলিত। অথচ নগরের মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীরা ভোগবিলাসিতায় আচ্ছন্ন। অর্থের কেন্দ্রীভবন নগরকে নানা নাগরিক সুবিধা দিলেও

প্রকৃতপক্ষে শহরের অল্পসংখ্যক বিলাসীরা যেখানে দেশের সব ঐশ্বর্য ভোগে ব্যস্ত, সেখানে পল্লীর মানুষ সেই সুখ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

৩. অভ্যাস ভয়ানক জিনিস। একে হঠাৎ স্বভাব থেকে তুলে ফেলা কঠিন। মানুষ হওয়ার সাধনাতেও তোমাকে ধীর ও সহিষ্ণু হতে হবে। সত্যবাদী হতে চাও? তাহলে ঠিক কর, সপ্তাহে অন্তত এক দিন মিথ্যা বলবে না। ছয় মাস ধরে এমনটি করে নিজে সত্য কথা বলতে অভ্যাস কর, তারপর এক শুভদিনে আরেকবার প্রতিজ্ঞা কর, সপ্তাহে তুমি দুই দিন মিথ্যা বলবে না। এক বছর পর দেখবে সত্য কথা বলা তোমার কাছে অনেকটা সহজ হয়ে পড়েছে। সাধনা করতে করতে এমন একদিন আসবে যখন ইচ্ছা করলেও মিথ্যা বলতে পারবে না। নিজেকে মানুষ করার চেষ্টায় পাপ ও প্রবৃত্তির সঙ্গে সংগ্রামে তুমি হঠাৎ জয়ী হতে কখনো ইচ্ছা কোর না, তাহলে সব পন্ড হবে।

সারাংশ : অভ্যাস এমন একটা জিনিস, যা থেকে মুক্তিলাভ করা কঠিন ব্যাপার। এ জন্য দরকার ধর্যের সঙ্গে দীর্ঘ ও কঠোর প্রচেষ্টা। মনুষ্যত্ব অর্জনের পথ খুঁজে পেতে হলে অভ্যাসের দাস না হয়ে ধীরতা ও সহিষ্ণুতার সাধনায় ব্রতী হতে হবে। মিথ্যা বলার প্রবণতা দূর করে সত্য বলার অভ্যাস গঠনের জন্য সাধনার দরকার। একমাত্র সাধনার মাধ্যম্যেই মানুষ পাপ ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জয়ী হতে পারে।

৪. বাল্যকাল হইতে আমাদের শিক্ষার সহিত আনন্দ নাই। কেবল যাহা কিছু নিতান্ত আবশ্যক, তাহাই কণ্ঠস্থ করিতেছি। তেমনি করিয়া কোনোমতে কাজ চলে মাত্র, কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না। হাওয়া খাইলে পেট ভরে না, আহার করিলে পেট ভরে, কিন্তু আহারাদি রীতিমতো হজম করিবার জন্য হাওয়া আবশ্যক। তেমনি একটি শিক্ষা পুস্তকের রীতিমতো হজম করিতে অনেকগুলি অপাঠ্য পুস্তকের সাহায্য আবশ্যক। ইহাতে আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। গ্রহণশক্তি, ধারণাশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বল লাভ করে।

সারাংশ : মানসিকতার বিকাশে বাল্যকাল থেকেই পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও কিছুসংখ্যক অপাঠ্য বইপুস্তক পাঠ করা আবশ্যক। তাতে বই পড়ার আনন্দ আসে। কারণ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো মুখস্থবিদ্যা, যার সঙ্গে আনন্দের যোগ নেই। পড়ার ইচ্ছা ও আগ্রহ বৃদ্ধি করার জন্য পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। তাই আমাদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে জ্ঞান চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। প্রকৃত শিক্ষার জন্য পাঠ্য বই ছাড়াও চাই পাঠ সহায়ক আনন্দকর শিক্ষা উপকরণ, যাতে শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের যোগে মনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে।


আপনার মন্তব্য