শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৭

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

মোকাররম বিল্লাহ - সিনিয়র সহকারী শিক্ষক

নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহন

মানুষের বক্ষগহ্বরের বাঁ দিকে অনৈচ্ছিক পেশি গঠিত ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ, যার মাধ্যমে সারা দেহে এক ধরনের তরল পদার্থের সংবহন অব্যাহত থাকে।

ক. রক্তচাপ কী?

ক. কোলেস্টেরল বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত অঙ্গটির গঠন সংক্ষেপে লেখ।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত তরল পদার্থটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

ক. রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালির গাত্রে যে চাপ সৃষ্টি করে তাই রক্তচাপ।

খ. কোলেস্টেরল হলো হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। এটি লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিনের মধ্যে  HDL হলো ভালো কোলেস্টেরল। কারণ এটি হৃদেরাগের ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে  HDL হলো খারাপ কোলেস্টেরল; কারণ এটি হৃদেরাগের ঝুঁকি বাড়ায়।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো হৃদপি-। নিচে হৃদপিন্ডের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-

হৃদপি- দুই ফুসফুসের মাঝে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। হৃদপিন্ড হৃদপেশি নামক একটি বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। এর প্রাচীরে তিনটি স্তর রয়েছে। যথা- বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম, মধ্যস্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং অন্তঃস্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। হৃদপিন্ডের ভেতরে চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে।

দুটি অলিন্দডান ও বাঁ অলিন্দ এবং দুটি নিলয়ডান ও বাঁ নিলয়। এরা পরস্পর যথাক্রমে আন্তঃ অলিন্দ ও আন্তঃ নিলয় পর্দা দ্বারা পরস্পর পৃথক থাকে। ডান অলিন্দ ও নিলয়ের ছিদ্র পথে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং বাঁ অলিন্দ ও নিলয়ের ছির্দ্ররপথে বাইকাসপিড থাকে এবং মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির মুখে অর্ধ চন্দ্রাকার কপাটিকা থাকে। এরা রক্তের বিপরীতমুখী প্রবাহকে প্রতিরোধ করে।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত তরল পদার্থটি হলো রক্ত। নিচে মানবদেহে রক্তের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-

১. লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন-হিমোগ্লোবিনরূপে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।

২. কোষে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেটরূপে রক্তচাপ সংগ্রহ

করে এবং নিঃশ্বাস বায়ুর সঙ্গে বের করে দেয়।

৩. রক্তরস গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, চর্বিকণা ইত্যাদি কোষে সরবরাহ করে।

৪. দেহে উৎপন্ন তাপ রক্তের মাধ্যমে সমগ্র দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাপের সমতা রক্ষা করে।

৫. রক্ত দেহের দূষিত ও বর্জ্য পদার্থ বহন করে এবং ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশন করে।

৬. হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হয়।

৭. কয়েক প্রকার শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় দেহকে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্ত দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

৮. রক্তের অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং দেহের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, মানবদেহে রক্তের ভূমিকা অপরিসীম।


আপনার মন্তব্য