শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুকুমার মন্ডল : সিনিয়র শিক্ষক

অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

(পূর্ব প্রকাশের পর)

 

প্রথম ভাগে বাঙালির বাসস্থান, পরিধেয় বস্ত্র, স্থাপত্যশিল্প ব্যাখ্যা করেছেন। দ্বিতীয় ভাগে মানুষের কল্পনার বিকাশ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে মানুষের কল্পকাহিনি, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস কেমন তার লিখিত রূপ প্রকাশ করা হয়েছে। তৃতীয় ভাগে উর্বর বাংলার মানুষ কিভাবে তাদের কণ্ঠস্বরে বাংলার প্রকৃতি ও নদী-নালার কথা ফুটিয়ে তুলত তার বর্ণনা করা হয়েছে।

ক. সংস্কৃতি কী?

খ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে—ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে বইটির দ্বিতীয় ভাগে বাংলার কোন শিল্পের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বইতে প্রথম ও তৃতীয় ভাগের মধ্যে কোন ভাগটি বাঙালির সৃজনশীলতায় বেশি সমৃদ্ধ? তোমার মতামত দাও।

প্রশ্ন-৬। বেশ কয়েক মাস আগে জাহানারা উচ্চতর ডিগ্রি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সে প্রতিদিন নিত্যনতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তাদের সংস্কৃতি, রীতি-নীতি সে দেখছে, শিখছে। সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

ক. ধর্মমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?

খ. সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি ঘটে কেন?

গ. উদ্দীপকে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার কোন কারণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে করো যে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনশীলতার জন্য শুধু উক্ত কারণটিই সক্রিয়? যৌক্তিক মতামত দাও।

প্রশ্ন-৭। মেছবাহ সাহেব একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। সুযোগ পেলেই তিনি আশিক ও মেয়ে প্রণীনকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যান। ওরা সেসব স্থানে গিয়ে প্রাচীনকালে দালানকোঠা, ভাস্কর্য, অলংকার, মুদ্রা দেখতে পায়। এ ছাড়া তিনি অবসর সময়ে দেশের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। কারণ তিনি চান তাঁর সন্তানরা নিজ দেশের প্রাচীন অবস্থা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানুক।

ক. লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?

খ. ধর্মীয় স্থাপত্য বলতে কী বোঝায়?

গ. আশিক ও প্রণীনের দেখা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো কোন ধরনের সম্পদ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘আশিক ও প্রণীনকে দেশ সম্পর্কে জানতে হলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি’ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

দ্বৈত শাসনব্যবস্থা

দ্বৈত শাসনব্যবস্থা ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা এবং বাংলার মানুষের জন্য অভিশাপস্বরূপ। ১৭৬৫ সালে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ দিল্লি সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করেন। বাংলার নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করেন। দ্বৈত শাসন চালু হওয়ার পর ক্লাইভ নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন; অন্যদিকে কম্পানি রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পায়। পরে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করে এবং তা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে। করের বোঝা, ধারাবাহিক তিন বছরের অনাবৃষ্টি প্রভৃতি মিলিয়ে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতীয় সংগীত, সংবাদ বুলেটিন, দেশাত্মবোধক সংগীত, চরমপত্র পাঠ অনুষ্ঠান প্রচার প্রভৃতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে। পাকিস্তানি হানাদারদের ভয়াল থাবা থেকে দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য বাংলার দামাল ছেলে, যুবা, বৃদ্ধ একযোগে যুদ্ধ শুরু করে; হানাদারদের বিরুদ্ধে নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে দিনের পর দিন বনজঙ্গলে লুকিয়ে থেকে যুদ্ধ করে তারা। আর এই অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং বাঙালি জনতা স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে উঠত।

তারা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে হানাদারদের বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ করার সাহস পেত।

৯ মাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তির কারণ

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় আর শেষ হয় ১৬ই ডিসেম্বর। মাত্র ৯ মাসে এই অসম যুদ্ধের সফল সমাপ্তি বিস্ময়কর; কিন্তু প্রায় অসম্ভব ব্যাপারটি সম্ভব হয়েছে মূলত ৪টি কারণে। প্রথমত, আমাদের মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ছিল সাহসিকতাপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, সমগ্র দেশবাসীর ছিল দৃঢ় ঐক্য। তৃতীয়ত, ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সক্রিয় সহায়তা। চতুর্থত, বিশ্বজনমত ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানি হানাদারদের বিপক্ষে।