ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতে ইসলামীর ছয় প্রার্থীর মধ্যে কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে একজনের। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ৩ কোটি ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার। আতাউর রহমান ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জামায়াতের ছয় প্রার্থী:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে একেএম আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোবারক হোসাইন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মো. জোনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে মো. আতাউর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মো. আব্দুল বাতেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে মো. মহসীন দলীয় প্রার্থী হয়েছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ও বার্ষিক আয়ে এগিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী মো. মহসীন। প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদ আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের প্রার্থী এ.কে এম আমিনুল ইসলামের। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার। যদিও হলফনামার আয়করের অংশ নিজের সম্পদ ২৩ লাখ ৮২ হাজার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আতাউরের কাছে মোট ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। তার স্থাবর সম্পদ আছে মোট ২ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। মো. মহসীনের অস্থাবর সম্পদ আছে ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, হলফনামার আয়করের অংশে নিজের ৫১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন তিনি। এরপর অস্থাবর সম্পদ বেশি রয়েছে জোনায়েদ হাসানের। তার ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৯১৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। তার হলফনামার স্থাবর সম্পদের পাতাটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
অস্থাবর সম্পদের দিক দিয়ে এরপরের অবস্থানে আছেন মোবারক হোসাইন। তার ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। স্থাবর সম্পদ আছে ৪৪ লাখ ২ হাজার টাকার। সবচেয়ে কম অস্থাবর সম্পদ আছে আমিনুল ইসলামের। তার রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯২৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ। আরও স্থাবর সম্পদ আছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকার।
বার্ষিক আয়ে এগিয়ে যারা:
বছরে আয় সবচেয়ে বেশি মো. মহসীনের। তার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে এই আয় দেখিয়েছেন তিনি। এরপরই আছেন মো. আব্দুল বাতেন। তিনি বছরে আয় করেন ৯ লাখ ১০ হাজার ৬৭৭ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে আয় দেখিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে আতাউর রহমানের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকা। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মোবারক হোসাইন ও জোনায়েদ হাসানের বার্ষিক আয় সমান। তারা বছরে আয় করেন ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। আমিনুল ইসলামের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
পেশা:
হলফনামায় আমিনুল ইসলাম ও মোবারক হোসাইন নিজেদের পেশা উল্লেখ করেছেন শিক্ষকতা। জোনায়েদ হাসান পেশা হিসেবে ব্যবসা ও পরামর্শক, আতাউর রহমান সাংবাদিকতা, আব্দুল বাতেন আইনজীবী ও মহসীন নিজের পেশা ‘ব্যবসা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে তিনজন স্নাতকোত্তর পাস। তারা হলেন আমিনুল ইসলাম, জোনায়েদ হাসান ও আতাউর রহমান। মোবারক হোসাইন কামিল পাস। বাকি দুজন স্নাতক পাস। তারা হলেন আব্দুল বাতেন ও মো. মহসীন।
দায়-দেনা:
আমিনুল ইসলাম, আতাউর রহমান, আব্দুল বাতেন ও মো. মহসীনের নামে কোনো দায়দেনা বা ব্যাংকঋণ নেই। জোনায়েদ হাসানের নামে কোনো দায়দেনা না থাকলেও ব্যাংকঋণ আছে ২৩ লাখ ৭ হাজার ২৩ টাকা। মোবারক হোসাইনের নামে কোনো দায়দেনা না থাকলেও যৌথ ব্যাংকঋণ আছে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬২ টাকা।
মামলা:
আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। মো. মহসীনের বিরুদ্ধে থাকা তিনটি মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জোনায়েদ হাসানের বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আছে। মোবারক একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই