বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের সম্মানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমনের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তিনি। এছাড়াও বরিশালের ৬টি আসনে থেকে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর জামায়াত নেতা মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ২৯ ডিসেম্বর বরিশালবাসীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে ১০ দলীয় জোট গঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট গঠনের আগেই সারাদেশের তিনশত আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। যার ধারাবাহিকতায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আমাকে প্রার্থী করা হয়। প্রার্থী হওয়ার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক একটি সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী সমমনা ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের ঐক্য হয়। ফলে জামায়াত ও ইসলামীসহ দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে মনোনয়ন আবার পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করে।
মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, চরমোনাই (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি, কল্যাণের রাজনীতিসহ সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। সেইসাথে এ দাবি দেশবাসীরও। আর জামায়াত ইসলামী দায়িত্বশীল দল হিসেবে বড় দল হিসেবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে আসছে। আমাদের নেতা ড. শফিকুর রহমানের আহ্বানে এ ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে। আগামী দিনের রাজনীতি সহনশীলতা ও সহমর্মিতা ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে সকলের সম্মান ও মর্যাদা সমন্নত রেখে, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারি, সেই জন্য ১০ দলের সিদ্বান্ত অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনে চরমোনাইর সমর্থনে জামায়াতের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা আহবান জানাই সারা বাংলাদেশে এইভাবে কল্যান ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। সেই জন্য ১০ দল ও বাইরেও কল্যানকর ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান তারাও সমবেত হবেন। এটা আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।
হেলাল বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও এরকম আসন বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ আসনে জামায়াত শক্তিশালী। প্রত্যেকটি এলাকায় সংগঠনের শক্তিশালী ভীত রয়েছে। সবাইকে চরমোনাইকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন জামায়াত নেতা হেলাল।
তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে বাংলাদেশের উন্নয়নে যাতে কাজ করতে পারি সেইজন্য বরিশাল-৫ (সদর) আসনে চরমোনাইয়ের সমর্থনে ১০ দলীয় জোট এবং জামায়াত ইসলামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন-বরিশাল-২ আসনের বাসদ প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল-৩ আসনের জাতীয় পার্টির ফকরুল আহসান ও ইকবাল হোসেন তাপস এবং বরিশাল-৫ আসনের জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও খেলাফত মজলিসের একেএম মাহবুব আলম।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল