দুই দশক পর নির্বাচনী জনসভা করতে বুধবার বরিশালে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ দিন বেলা ১২টায় বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবেন।
এ ছাড়াও বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে বিএনপি ও শরিক প্রার্থীদের পরিচয় করে দেবেন। দলীয় চেয়ারম্যানের সফর উপলক্ষ্যে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আনন্দ বিরাজ করছে। বিভাগের ৬ জেলা ও উপজেলা থেকে নেতারা সমাবেশের একদিন আগেই নেতাকর্মীরা বরিশাল নগরীতে এসেছেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই তারা বেলস পার্ক মাঠে এসে নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চ এবং সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যরা বিভিন্ন বিষয় তদারকি করছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, শুধু বিএনপির নেতাকর্মীই নয়। আপামর জনগন সবাই উপস্থিত হবেন। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সংখ্যা নিরুপন করা সম্ভব নয়। এটা নিরুপন করতে হলে টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেতা দুই দশক পর বরিশালে আসছেন। দুই দশক পূর্বে যখন তিনি এসেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। সময়ের বিবর্তনে উনি এখন দলের চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষ তারেক রহমানকে সরাসরি দেখবে, তার কথা শুনবেন। এ জন্য তারা উম্মুখ হয়ে ছিলেন। আমাদের যে প্রত্যাশা ও অপেক্ষারক্ষণ পূরন হতে চলেছে। মাহেন্দ্রক্ষন বুধবার সকাল ১১টায় আসবেন তিনি। ১২টায় উঠবেন। সমাবেশে বক্তব্য দিবেন। আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কত লোক হবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া যখন বরিশালে সমাবেশ করেছে, তখন সমগ্র বরিশাল ছিলো জনসভাবেশ স্থল। এবারো পুর্বের ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটবে।
বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম জনি বলেন, ‘আমরা আত্মহারা। তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য তার কথা শোনার সবাই অপেক্ষা করছি। বরিশালের উন্নয়ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাত থেকে শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তারেক রহমান বরিশালকে আধুনিক শিক্ষা নগরীর হিসেবে ঘোষনা করবেন। বরিশাল বিভাগের পর্যটনের স্থানগুলোকে পূর্নাঙ্গ পর্যটন নগরীর করা হয়, সেই দাবি করছি। ঢাকা বরিশাল মহাসড়ককে ছয়লেনে করারও দাবি রয়েছে। প্রয়াত খালেদা জিয়া বরিশাল বিভাগকে ঘিরে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড চালু করেছিলেন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই দেশনায়ক তারেক রহমানের মাধ্যমে।’
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে নিরাপত্তায় মুল দায়িত্ব পালন করবেন সিএসএফ। এছাড়াও মাঠের নিরাপত্তায় আমাদের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন।’
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী , বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। সমাবেশস্থানসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ন মোড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শুধু সমাবেশই নয়, নির্বাচনের লেভেল প্লেই ফিল্ড রক্ষায় কাজ করছে পুলিশ। অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারনায় নিরাপত্তা দিতেও পুলিশ নগরীতে থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক