কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত সালিশি বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির তিন কর্মীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি কর্মী খাইরুল হাসান (৪০) এবং তার সহযোগী নিজাম উদ্দিন (৪৫)। পরে বাজারে রেখে আসা মোটরসাইকেল আনতে গেলে দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হন বিএনপি কর্মী তুহিন হোসেন (৩২)। এছাড়া জামায়াত কর্মী শেখ সাইদুল ইসলামসহ আরও একজন আহত হন।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে বিএনপির ভোটার বৃদ্ধ আব্দুর রহমানের (৮০) কাছে জামায়াত কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে বুধবার সকালে মাসিলিয়া বাজারে বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা সালিশি বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে দুই দফায় প্রতিপক্ষ জামায়াত কর্মীরা বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আহতদের উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াত নেতা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, বিএনপির হামলায় তাদের পক্ষেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মী খাইরুল হাসান জানান, তিনি সকালে নিজের গ্রামে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ক্যাম্পিং করছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার ফোন পেয়ে তিনি মাসিলিয়া বাজারে যান। সেখানে বৈঠকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের এক কর্মী লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। তিনি হামলাকারীকে আটকে রাখলেও অন্য জামায়াত কর্মীরা তাকে ছাড়িয়ে নেয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান বলেন, তিনি ঘটনার কথা শুনেছেন। বাইরে থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তার নেতাকর্মীরা আহতদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী জানান, তিনি আহত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
খোকসা উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, নিষ্পত্তি বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির তিন কর্মী ও জামায়াতের দুই কর্মী আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে উভয় পক্ষ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ