শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:২৩

থিয়েটারে বড় দলের প্রভাব

ছোট দলগুলোকে নাট্য মঞ্চস্থ করতে হলে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয় বারংবার। কিন্তু অন্যদিকে বড় দলগুলো বিস্তার করে চলেছে তাদের প্রভাব। সংস্কৃতির আলোকিত স্বর্ণ শহরের দিকে যাত্রার ক্ষেত্রে সুষম সমাধান হওয়া উচিত বলে মঞ্চ নাট্যযোদ্ধারা মনে করছেন

পান্থ আফজাল

একটি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর শিল্প-সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে থাকে। আর সেই দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরে তার দেশের ঐতিহ্যকে। ঐতিহ্যের ধারা থেকেই বোঝা যায়, চেনা যায় একটি দেশকে। মাটির থেকে পাওয়া সংস্কৃতি, চিন্তাভাবনা কখনো পাল্টাতে পারে না। শুধু উপস্থাপনার ধারাটা পাল্টায় মাত্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকাই হয়ে ওঠে দেশের মূল মঞ্চনাটক প্রদর্শনীর কেন্দ্র। তবে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে ঢাকার বড় নাট্যদলগুলোর ক্ষমতা, যোগাযোগ, প্রচার বেশি। তাই জেলার প্রায় সবাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চায়। বলা যায়, একটা নির্ভরশীলতার সংস্কৃতিই এখন দাঁড়িয়ে গেছে।

এক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সদস্যভুক্ত ৬০টির বেশি নাট্যদল। আর এই নাট্যদলগুলোর মধ্যে থিয়েটার মঞ্চে বড় কয়েকটি দলেরই প্রভাব বেশি দেখা যায়। এসব কারণে ছোট দলগুলোর প্রতিভা ও সাংগঠনিক সবলতা থাকা সত্ত্বেও ঠিকমতো পাচ্ছে না মঞ্চ আর মহড়াকক্ষ। মঞ্চে অনিয়মিত প্রযোজনার মধ্যেই তারা আটকে আছে বড় দলের দাপটে। ঠিকমতো প্রযোজনা মঞ্চস্থ না করতে পারার কারণে নাট্যকর্মীরা হতাশ হয়ে থিয়েটারে নিয়মিত চর্চায় আসতে আগ্রহী হচ্ছে না।

সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজনীতি কমাতে বা থামাতে ‘জাতীয় নাট্যদল’ গঠনের বিকল্প নেই। জাতীয় খেলার দলের মতো ‘জাতীয় নাট্যদল’ এখন সময়ের দাবি। সেখানে সম্ভাবনাময় তরুণ নাট্যকর্মীরা কাজ করার সুযোগ পাবে। গ্রুপভিত্তিক নাট্যচর্চার জন্যই রাজনীতির সৃষ্টি হয়। সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এসব কমে যাবে।’ রুবাইয়াৎ আহমেদ বলেন, ‘অনেক সময় যোগ্যরা স্বীকৃতি পায় না, মধ্যম মানের কাজ উঠে আসে। নাট্যচর্চার কাজ এতে ব্যাহত হয়।’ রাজধানী ঢাকায় এই পর্যন্ত নাটক মঞ্চস্থ করার মতো মঞ্চ আছে ৫টি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিনটি, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির একটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রয়েছে একটি মঞ্চ। এক সূত্র মতে, ঢাকা নগরে ফেডারেশনভুক্ত নাট্যদল আছে সর্বসাকল্যে ৬৩টি। গত দেড় বছরে পাঁচ হলের বরাদ্দ তালিকায় অনেক দলের নাম ওঠেনি। বলা যায়, এক-তৃতীয়াংশ সদস্য মঞ্চে একেবারেই অনিয়মিত। অন্যদিকে, প্রধান বড় দলগুলো মঞ্চ পেয়েছে মাসে ২০ দিনেরও  বেশি। সূত্রমতে, বিভিন্ন নাট্যোৎসবসহ মোট ১৫২টি দল হলগুলোর বরাদ্দ তালিকায় ছিল বছরজুড়ে।

শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চ তিনটির চাহিদা সবচেয়ে বেশি কারণ ভাড়া কম। অনেক ছোট দলসহ মধ্যম মাপের দলের দলীয় প্রধান ও কর্মীরা বলছে, শিল্পকলার মঞ্চগুলো পাওয়াই যায় না। তারা বলছেন, ফেডারেশনের কমিটিতে যারা আছেন তারাই বেশি হল পান। আবার প্রতি মাসেই তারা আবেদন করেন, কিন্তু হল পান না। হল পায় বড় দলগুলো। হল বরাদ্দ কমিটির সদস্য নাট্যজন আতাউর রহমান বলেছেন, ‘বড় দলগুলো মূলত দলের নাট্যচর্চার ঐতিহ্য ও নাটকের মান বিবেচনা করে হল ও মহড়া কক্ষ পায়। তারা তো থিয়েটারের পথপ্রদর্শক, তারা তো অগ্রাধিকার পাবেই! আর পাবে না কেন, ছোট দল ভালো ভালো কাজ করলে কিন্তু আমরা তাদেরও বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বছরজুড়ে সর্বোচ্চ ২৬ দিন বরাদ্দ পেয়েছিল লোক নাট্যদল (সিদ্ধেশ্বরী)। ২৪ দিন করে বরাদ্দ পেয়ে তালিকায় এরপরেই ছিল আরণ্যক নাট্যদল ও থিয়েটার (বেইলি রোড)। এ দুটি নাট্যদলের প্রধানরা একাধিকবার ফেডারেশনের কমিটিতে ছিলেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ও নাট্যকেন্দ্র মঞ্চ পেয়েছিল ২৩ দিন করে। অন্যদিকে ফেডারেশনে নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা থিয়েটার হল বরাদ্দ পেয়েছিল তখন ২২ দিন। থিয়েটার আর্ট ইউনিট, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, লোক নাট্যদল (বনানী), প্রাচ্যনাট, নাগরিক নাট্যাঙ্গন বাংলাদেশ ও স্বপ্নদল ২০ দিনের আগে-পিছে করে মঞ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এ বড় দলগুলো ফেডারেশনের কমিটিতে আছে প্রথম থেকেই। তবে এর ব্যতিক্রমও ঘটেছে কিছুটা। ফেডারেশনের সদস্যই নয় এমন দু-একটি দলও নিয়মিত হল পেয়েছে। যেমন নাট্যতীর্থ, প্রাঙ্গণেমোর, চারুনীড়ম থিয়েটার, ম্যাড থেটার ও নাট্যম রেপার্টরি।


আপনার মন্তব্য