শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৪৭

ইন্টারভিউ → কাজী হায়াৎ

দর্শক নিজ দেশের গল্প চায়

দর্শক নিজ দেশের গল্প চায়

ঢালিউডের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াতের ৫০তম পরিচালনা ‘বীর’ গত শুক্রবার মুক্তি পেয়ে দর্শকমন জয় করে নিয়েছে। দেশীয় চলচ্চিত্রের চরম খরায় এই সফলতা অর্জন কীভাবে সম্ভব হলো। সে কথাই বলেছেন এই নির্মাতা। তার বলা কথা তুলে ধরেছেন-

আলাউদ্দীন মাজিদ

 

আপনার নির্মিত ‘বীর’ ছবিটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে চলছে, এই সফলতা কীভাবে সম্ভব হলো?

প্রথমেই বলে নিই, ছবি যদি ভালো হয়, নিজ দেশের মাটি ও মানুষের ছায়া যদি তাতে থাকে তাহলে দর্শক যে সিনেমা হলবিমুখ হয় না তা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে ‘বীর’। এটি আমি কোনো বিদেশি ছবির অনুকরণে অথবা ধার করা কোনো বিদেশি ছবির গল্প নিয়ে নির্মাণ করিনি। একেবারে দেশীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক নানা ঘটনা তুলে ধরেছি এতে। পত্রিকা ও টিভিতে যেসব রোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক, দুর্নীতি, ধর্ষণ, সাংবাদিক লাঞ্ছনা, সংখ্যালঘুদের ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয়ভীতি দেখানোর খবর প্রকাশ হয় সেগুলোকে উপজীব্য করে নিজ দেশের চিত্রের মালা গেঁথে গল্প লিখেছি। দর্শক পারিপার্শ্বিক এসব সমসাময়িক ঘটনা দেখতে পেয়ে ‘বীর’কে সাদরে গ্রহণ করেছে। এটিই ‘বীর’ ছবির সাফল্যের মূলমন্ত্র।

 

ব্যক্তিগতভাবে দর্শক কি তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে?

দর্শকের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের যে অবস্থা তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। অজস্র ফোনকল আসছে। প্রচুর দর্শক-ভক্ত দিনরাত আমার বাসার সামনে ফুল হাতে নিয়ে এসে জড়ো হচ্ছেন। তারা আমাকে বলছেন অনেকদিন পর হৃদয় স্পর্শ করা এবং এক নিঃশ্বাসে দেখার মতো একটি ছবি পেয়ে তারা মুগ্ধ। অনেকেই একাধিকবার ছবিটি দেখেছেন এবং আবারও দেখবেন বলে জানিয়েছেন। একটি ঘটনায় আমার নিজের চোখেই অশ্রু চলে এসেছে। কুষ্টিয়া থেকে এক মাইক্রোবাস চালক সকাল থেকে ফুল হাতে নিয়ে আমার বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে দেখা না করে যাবেনই না। অগত্যা আমি তার সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি আমার পায়ে ধরে সালাম করলেন। এরপর বললেন আমার কপালে তিনি চুমু খেতে চান। আমি না করায় কেঁদে ফেললেন। তার কান্না দেখে আমি তার ইচ্ছা পূরণ করলাম। তিনি হাতজোড় করে আবারও এমন চমৎকার গল্পের ছবি নির্মাণের অনুরোধ জানালেন আমাকে।

 

শাকিব খানকে এই ছবিতে একেবারেই নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন, তার সম্পর্কে কিছু বলুন-

এক কথায় শাকিব একজন জাত অভিনেতা। তাকে প্রপার ইউটিলাইজ করার মতো নির্মাতা পেলে তিনি যে জ্বলে উঠেন তা এর আগেও প্রমাণ হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা ক্লাবে ছবিটি নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এর ট্রেলার দেখে উপস্থিত সব শ্রেণির অতিথি ও বোদ্ধাশ্রেণি বলেছেন শাকিব অসাধারণ একজন অভিনেতা। এই ছবিতে তার উপস্থাপনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বয়ং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছবিটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংসদ সদস্য ফারুক বলেছেন, এই ছবিতে শাকিব যে বলিষ্ঠ অভিনয় করেছেন তাতে তিনি কমপক্ষে আরও ১০ বছর ঢাকাই ছবিতে রাজত্ব করবেন। আরেকটি কথা না বললেই নয়, অভিনেতার মতো নির্মাতা হিসেবেও শাকিবের তুলনা নেই। নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে তিনি আপস করেন না। আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব শাকিব খান।

 

এবার নতুন কি ছবি নিয়ে আসছেন?

এখনো ভাবিনি। কারণ বীর নিয়ে এমন অপ্রত্যাশিত দর্শক সাড়ায় আমি বাকরুদ্ধ। দর্শক বিপুলভাবে সিনেমা হলে ফিরেছে, ছবিটিকে সাদরে গ্রহণ করছে, এতে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন আরও উন্নত কিছু করার দায়িত্ব আমার বেড়ে গেল।


আপনার মন্তব্য