শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২১:৪৮

ইন্টারভিউ → অধরা জাহান

আমার আজকের এই অবস্থান মায়ের আশীর্বাদ

আমার আজকের এই অবস্থান মায়ের আশীর্বাদ

গীতিকবি, অভিনেত্রী এবং উপস্থাপিকা- এই তিনটি নাম যার জীবনে এক সুতায় গাঁথা, তিনি হলেন অধরা জাহান। সাহিত্য-সংস্কৃতি যার প্রাণের খোরাক। আজ তার সাহিত্যচর্চার এপিঠ-ওপিঠ নিয়ে কথা বলেছেন-  রাফিয়া আহমেদ

 

কেমন আছেন?

আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। চারদিকে করোনাভাইরাসের যে আতঙ্ক, এরপরও আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।

 

১১ জন শিল্পীকে নিয়ে আপনার যে গানটি নারী দিবসে প্রকাশ পেয়েছে, তার কেমন সাড়া পেলেন?

অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ১১ জন জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে আমার লেখা গানটি যখন তুলে ধরা হয়েছে তখন সত্যিই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করেছে।

 

এই গানটি নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

এই গানটি নিয়ে আমার অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল। দেশের অনেক খ্যাতনামা নারীকে নিয়ে আমি অনেক পড়াশোনা করে তবেই এই গানটি লিখেছি। এখানে মোট ১৩ জন বিখ্যাত নারীর নাম তুলে ধরা হয়েছে। আসলে কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। আমার এই গানটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যতটা ভালো ফল পেয়েছি তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছি।

 

লেখার প্রতি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে কে?

আসলে লেখালেখির শুরুটা আমার ছোটবেলা থেকেই। যখন আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি তখন থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ কাজ করত এবং আমি লিখতামও। একবার আমার স্কুলে একটা প্রতিযোগিতা হয়েছিল সেখানে আমি মাকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলাম। আমার লেখাটি পড়ে আমার স্কুলের শ্রদ্ধেয় বকুল ম্যাডাম আমাকে বলেছিলেন, তুমি বড় হয়ে যাই হও না কেন, কলমটা ছেড় না। তখন আমি ছোট ছিলাম, তাই এই কথাটার মানে বুঝিনি কিন্তু আজ বুঝি এই কথাটার বিশালতা।

 

উপস্থাপনায় কীভাবে এসেছেন?

উপস্থাপনা শুরু করি বিটিভির মাধ্যমে। আমার আজকের এই অবস্থান আমার মায়ের আশীর্বাদ। এরপর আমি নতুন কুঁড়ির হাত ধরে বিটিভিতে যাত্রা শুরু করি। ২ বছর পর উপস্থাপিকা হিসেবে বিটিভিতে কাজ শুরু করি।

 

অভিনয়ে কীভাবে পা রাখলেন?

বিটিভিতে কাজ করাকালীন একসময় আমি দেখতে পাই বিটিভির স্টেজে মঞ্চনাটক হচ্ছে। সেখানে রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, ত্রপা মজুমদার, আবুল হায়াতÑ এদের মতো বড় মাপের শিল্পীরা নাটকের কাজ করছেন। এটা দেখে আমার ইচ্ছা জাগল যে, আমিও নাটক করব। তখন শব্দ নাট্যদলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হলো। সেখানে শব্দ নাট্যদলের যিনি প্রধান খোরশেদ ভাই, তার হাত ধরেই আমার অভিনয় জগতের শুরু। শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হলো। এত চেনা মুখের ভিড়ে একজন মানুষের কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন আমার খুবই প্রিয় ইশরাত নিশাত আপা।

আজকে আমি অধরা মানুষকে সম্মান দেওয়া এবং মানুষের সঙ্গে নমনীয় ব্যবহার করার যে শিক্ষাটা পেয়েছি সেটা এই ইশরাত আপার কাছ থেকেই শিখেছি। এরপর থেকে আস্তে আস্তে টিভি নাটকে অভিনয় করা শুরু করেছি। সামনে ভালো কিছু নাটকের প্রস্তাব আছে।

 

লেখিকা, উপস্থাপনা ও অভিনয়, কোনটিকে বেশি প্রধান্য দেবেন?

লেখিকা হয়েছি আমার মনের তাগিদে। এটি আমার মনের খোরাক। আমার লিখতে ভালো লাগে। উপস্থাপনা করি, ওয়ে বলেছি, মাকে কথা দিয়েছিলাম আমি উপস্থাপক হব। বর্তমানে উপস্থপনাটাকে আমি অনেক উপভোগ কবি। আর অভিনয়ের কথা যদি বলতে চাই, তবে বলতে হবে, এটি আমার ভালো লাগার একটি বিষয়। কিন্তু নিজেকে লেখিকা ও উপস্থাপক হিসেবে ভাবতে ভালো লাগে।


আপনার মন্তব্য