শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০২০ ২১:৫২

ভাইরাস নিয়ে নির্মিত হলিউডের ছবি

শোবিজ ডেস্ক

ভাইরাস নিয়ে নির্মিত হলিউডের ছবি

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব এখন নাকাল। প্রতিদিনই গুনতে হচ্ছে লাশের মিছিল। চীন থেকে শুরু হলেও আঁচ এসে পড়েছে আমাদের দেশেও। এ সময় আতঙ্ক নয়, করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মহামারী এই ভাইরাস নিয়ে অনেক আগে থেকেই নির্মিত হয়ে আসছে চলচ্চিত্র। কাল্পনিক, কখনোবা বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকেই সেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। মহামারী ভাইরাস নিয়ে নির্মিত সেই ছবিগুলো অনলাইন প্লাটফর্মে বর্তমান সময়ে বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। খুঁজে খুঁজে সবাই ওই ছবিগুলোই দেখছেন। এতে করে মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

ভাইরাস নিয়ে যে ছবিগুলো দেখার চেয়ে না দেখতেই উৎসাহিত করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা, সেই ছবিগুলোর একটা তালিকা দেওয়া হলো-

 

ক্যারিয়ারস

২০০৯ সালের ছবি ‘ক্যারিয়ারস’-এ দেখানো হয় চার বন্ধু মারাত্মক ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

শেষে একপর্যায়ে তারা জানতে পারছে, আসলে তারা নিজেরাই অন্য ভাইরাসের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ভাইরাস শরীরে নয়, মনে। সেটা নিজেরা অবহিত হয় পরে। এ ছবি বিজ্ঞানের চেয়ে বেশি কিছু। এ ছবি দর্শনের ছবি, ভবিতব্যের ছবি।

 

কন্টাজিয়ন

২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি এখন সবার মুখে মুখে। কারণ করোনাভাইরাস নিয়েই এই ছবি। তখন বক্স অফিসে ছবিটি সাফল্য পায়নি। সাফল্য পাচ্ছে এখন।

ছবিটি নির্মাণের নয় বছর পর চীন থেকে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ এ ছবিকে নিয়ে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, কন্টেজিয়নের গল্প আর বাস্তবের করোনাভাইরাস মহামারীর অবিশ্বাস্য মিল। স্টিভেন সোডারবার্গ পরিচালিত ২০১১ সালের সিনেমা ‘কন্টেজিয়ন’ (অর্থ : রোগ সংক্রমণ) ছবিটি শুরু হয় কালো পর্দা থেকে।

 

আউটব্রেক

১৯৯৫ সালে জার্মান পরিচালক উলফগ্যাং পিটারসনের ‘আউটব্রেক’ ছবিটি মুক্তি পায়। ডাস্টিন হফম্যান, মর্গান ফ্রিম্যান, রেনে রুশো, কিউবা গুডিং প্রমুখ অভিনীত এ ছবি।  আফ্রিকার দেশ জায়ারে অনেকটা ইবোলার মতো প্রাণঘাতী কল্পিত এক ভাইরাস ‘মোতাবা’ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সেই ভাইরাস আমেরিকার এক শহরে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীকালে বাস্তবের ইবোলা আক্রমণ অনেকটাই মিলে যায় সিনেমার এই মোতাবার সঙ্গে।

 

টোয়েন্টিএইট ডেজ লেটার

২০০২ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। ছবিতে দেখা যায়, ব্রিটিশ ‘অ্যানিমেল লিবারেশন’ সংস্থার একদল আন্দোলনকারী একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের ভিতর ঢুকে পরীক্ষারত কয়েকটি শিম্পাঞ্জিকে মুক্ত করে দেয়। শিম্পাঞ্জিগুলোর ওপর একটি বিশেষ কেমিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছিল, যা প্রচন্ড রাগের উদ্রেক করে এবং এটি বহনকারী যে কোনো প্রাণী যদি কাউকে কামড়ে দেয়, তাহলে সেই ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়ে যায়। এমন অবস্থায় চারজন শুরু করে বেঁচে থাকার লড়াই। সারা ব্রিটেনে একটা ভয়াবহ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ২৮ দিন পর শুধু হাতেগোনা কিছু মানুষ বেঁচে থাকে।

এ ছবির পরিচালক ড্যানি বয়েল।

 

প্যানডেমিক

একজন ডাক্তার ও তার দল মহামারী থেকে যেসব মানুষ বেঁচে গেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে তাদের খুঁজে বের করছেন এবং তাদের নিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করছেন। এমন কাহিনি উঠে এসেছে ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্যানডেমিক’ ছবিতে। ছবির পরিচালক জন সুটস। চিত্রনাট্যকার ডাস্টিন টি বেনসন। এই ছবিটি জনমানসে বিপুলভাবে গৃহীত হয়েছিল।

 

আই অ্যাম লিজেন্ড

হলিউড মহাতারকা উইল স্মিথ অভিনীত ২০০৭ সালের সিনেমা ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’। ছবিতে ভাইরোলজিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সেখানে দেখানো হয় বেশ কয়েক বছর আগে মহামারীতে আক্রান্ত নিউইয়র্কের বেশির ভাগ মানুষ মারা যায়, বাকিরা পরিণত হয় দানবে জোম্বি রাক্ষসে। এ দিকে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ ও সিংহ। একমাত্র বেঁচে থাকা মানুষ স্মিথ এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে থাকেন। তার একমাত্র সঙ্গী তার পোষা অ্যালসেশিয়ান কুকুর।

 

রেসিডেন্ট ইভিল

মিলা জোভোভিচ অভিনীত এই সিনেমায় দেখানো হয় একটি বিশেষ চক্রের কারণে জীবাণু অস্ত্রের মাধ্যমে কীভাবে জোম্বি হয়ে পড়ছে গোটা শহর। এই ভাইরাস পরবর্তীকালে খাদ্য সংকটের কারণ হয় ও অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে সেটাও দেখানো হয় এই ছবিতে। ছবিটি এত সফল হয় যে, সিরিজও বানানো হয় ছবিটির। ২০০৭ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল : এক্সটিংশন’, ২০১০ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল : আফটার লাইফ’, ২০১২ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল : রিট্রিবিউশন’ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল : দ্য ফাইনাল চ্যাপ্টার’ মুক্তি পায়।

 

ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড

এক ধরনের ভাইরাসের কারণে জোম্বি অর্থাৎ নরঘাতক হয়ে ওঠার কাহিনি দেখানো হয় ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ সিনেমায়।

ব্র্যাড পিট সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন।

 

ব্লাইন্ডনেস

২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে দেখানো হয় একটি সমাজে অন্ধত্ব কীভাবে মহামারী রোগের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

 

ম্যাগি

ভাইরাসজনিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার কাহিনি দেখানো হয় অ্যাকশন স্টার আর্নল্ড শোয়ার্জেনিগার অভিনীত ২০১৫ সালের সিনেমা ‘ম্যাগি’তে। সিনেমায় এই নায়ককে আবেগতাড়িত, খুব ভিন্ন এক চরিত্রে দেখা গেছে।

 

ডুমস ডে

২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় ভবিষ্যতের স্কটল্যান্ডে এক ভয়াবহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা দেখানো হয়।


আপনার মন্তব্য