শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ জুলাই, ২০২১ ২২:০৮

বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্ণ করতে পারলাম না

--------- ফেরদৌস ওয়াহিদ

বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্ণ করতে পারলাম না
Google News

‘১৯৭৬ থেকে সংগীত ভুবনে দাপিয়ে বেড়িয়েছি ফিরোজ সাঁই, আজম খান, ফকির আলমগীর ও আমি। চারজন ছিলাম চার ঘরানার। চার খলিফার মধ্যে এখন বেঁচে আছি শুধু আমি।’ এভাবেই নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ।

 নতুন ধারার সংগীতের বার্তা নিয়ে স্বাধীনতা-পরবর্তী পপসম্রাট আজম খান যখন পথচলা শুরু করেন, সঙ্গে নিয়েছিলেন ফকির আলমগীর, পিলু মমতাজ, ফিরোজ সাঁই ও ফেরদৌস ওয়াহিদের মতো বাংলা গানের রথী-মহারথীদের। ১৯৯৫ সালের ১২ জানুয়ারি ফিরোজ সাঁই, ২০১১ সালের ২৩ মে পিলু মমতা, ২০১১ সালের ৫ জুন আজম খান আর সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৩ জুলাই ফকির আলমগীরকে হারিয়ে এখন একা হয়ে গেলেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। ফকির আলমগীরের সাঙ্গে ফেরদৌস ওয়াহিদের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় ৪৯ বছর। তাই ফেরদৌস ওয়াহিদের কাছে জানতে চাই ফকির আলমগীরের সঙ্গে পরিচয়ের শুরুটা। তিনি বলেন, ‘গানের মধ্য দিয়ে ফকির আলমগীরের সঙ্গে আমার পরিচয়। ফকির ছিল আগাগোড়াই রসিক ও মিশুক মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা গাঢ় হয় ওঁর বিয়ের সময়। মজার বিষয় হচ্ছে তাঁর মাথায় বিয়ের পাগড়িটা আমার হাতেই উঠেছিল। আমার আর ফকিরের ইচ্ছা ছিল, বন্ধুত্বের ৫০ বছরে একটি গানের অনুষ্ঠান করার। আমাদের ইচ্ছাটা অধরাই রয়ে গেল। বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমি আর ফকির আলমগীর সর্বশেষ বড় একটি ইন্টারভিউ দিই। আমরা একসঙ্গে অসংখ্য শো করেছি। ওর সম্পর্কে আজ এটুকুই বলব, বন্ধু তো বন্ধুর মতোই আছে। যতদিন বাঁচি সেই মায়া, মমতা, স্মৃতি তো থাকবেই। আজ একটি কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশে ওঁ-ই একমাত্র মানুষ যে গণসংগীতটাকে ধরে রেখেছিল আমৃত্যু। আমি দ্যর্থহীন কণ্ঠে বলে রাখলাম, আজ থেকে বাংলাদেশ গণসংগীতহীন হয়ে গেল। আজ থেকে সংগীতের এই অসাধারণ ধারাটিতে শূন্যতা তৈরি হলো। এই ঘাটতি কবে কে পূরণ করবে, জানি না। আদৌ হবে কি না, তাও জানি না। ওঁর একটা স্টাইল ছিল। বলিষ্ঠ মানুষ। মানুষকে মুগ্ধ করতে পারত গানে ও গল্পে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ও একইভাবে ছিল। খেয়াল করবেন, ওঁ আমাদের সঙ্গে মিশে যেমন পপ ঘরানার গানে যুক্ত হলো, তেমন গণসংগীতাটাকেও আগলে রাখল পরম মমতায়। ওঁ আসলে পপের আদলে গণসংগীতটাকেই আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করল। ওঁর এই অকাল পরাজয়ের কারণ করোনাভাইরাস। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওঁর এই পরাজয় আমাদের আরও সচেতন করুক, সেই প্রত্যাশা করি। বন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।