শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০২০ ১৮:৫৭

সুশান্ত দিল বেচারাতেও বলিষ্ঠ অভিনেতার প্রমাণ দিয়েছেন

তসলিমা নাসরিন

সুশান্ত দিল বেচারাতেও বলিষ্ঠ অভিনেতার প্রমাণ দিয়েছেন
তসলিমা নাসরিন

খুব খুব খুবই ভালো ফিল্ম না হলে আমি দেড় দু'ঘণ্টা সময় নষ্ট করি না। বাংলা আর হিন্দি ফিল্ম দেখতাম কিশোর বয়সে, পৃথিবীর ভালো ফিল্মের স্বাদ পেয়ে যাওয়ার পর খুব বেছে ছবি দেখি। বাংলা হিন্দি একেবারেই দেখা হয় না এখন তা নয়। দেখা হয়, যদি খুব খুব ভালো হয় সেসব। 'দিল বেচারা' আমার দেখার কথা নয়। সাধারণ মানের ছবি এটি। কিন্তু দেখলাম সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য। প্রচণ্ড প্রতিভাধর একজন শিল্পীর চলে যাওয়া, তাও আবার আত্মহত্যা করে। খুব স্বাভাবিক, কষ্ট দেয়। 

দিল বেচারাতেও সুশান্ত প্রমাণ করেছেন স্ক্রিপ্ট যেমনই হোক, ছবি যে মানেরই হোক, উনি খুব বলিষ্ঠ অভিনেতা। ইমানুয়েল রাজকুমার জুনিয়রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুশান্ত। যখন ইমানুয়েল মারা যায়, চোখে আমার জল জমে একাকার। আমি বুঝিনি এই জল কি ছবির ইমানুয়েল চরিত্রটির মরে যাওয়ার কারণে, নাকি ওই চরিত্রে অভিনয় করা বাস্তবের সুশান্ত সিং রাজপুতের মরে যাওয়ার কারণে!

ক্যান্সার রোগটি আমার ফ্যামিলিতেও। আমার মা, দাদা, মামা, কাকা সব ক্যান্সারে গেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই কোনও ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের কথা শুনলে বা পড়লে সে ফিকশন হলেও, এমনকী পর্দায় তাদের দেখলেও, সে ফিচার ফিল্ম হলেও, অভিনয় হলেও, চোখ আমার ভিজে ওঠে। জানি সবাই আমরা মরে যাবো, তারপরও প্রিয়জনদের তো বটেও অন্য কারোর অকাল মৃত্যুই, এমন কী অচেনা কারোর, মেনে নিতে কষ্ট হয়। 

আমরা তো এখন মৃত্যুপুরীতে বাস করছি। প্রতিদিন খবর আসছে মৃত্যুর। মৃত্যু দেখতে দেখতে আমাদের তো অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কথা। আমি কেন এখনও অভ্যস্ত হচ্ছি না বুঝি না! এখনও আমার দিল বেচারা ছবির বেদনার দৃশ্য দেখলে ককিয়ে ওঠে। মানুষের জন্য মানুষের এই অনুভূতি, এর নামই হয়তো মনুষ্যত্ব। এই মনুষ্যত্ব বাদ দিলে মানুষ নামক প্রাণীর বিশেষ কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর