শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:০৬
আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৬:১৯

সৌদির ‘সাম্মাম’ ফল এখন বরিশালে

রাহাত খান, বরিশাল

সৌদির ‘সাম্মাম’ ফল এখন বরিশালে

‘সাম্মাম’। সৌদি জাতের নতুন ফল। আর এই ফল প্রথমবারের মতো উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বরিশালের কৃষক গিয়াসউদ্দিন লিটু সরদার। সৌদি থেকে বীজ সংগ্রহ করে এবার ৫০ শতাংশ পতিত জমিতে দুই জাতের সাম্মাম চাষ করে প্রায় এক টন ফল উৎপাদন করেছেন তিনি। এক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ সবুজ আর ভিতরে লাল এবং আরেক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ হলুদ আর ভিতরের অংশ লাল। তবে দুটি ফলই খেতেই মিষ্টি ও সু-স্বাদু। 

লিটু সরদারের নতুন জাতের রসালো ফল উৎপাদনের খবরে প্রতিদিন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন আশপাশের কৃষকরা। কেউ কেউ আগামীতে নতুন জাতের এই রসালো ফল উৎপাদনের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন লিটু সরদার। 

সৌদি আরব থেকে বীজ সংগ্রহ করে নগরীর করমজা এলাকায় পতিত ৫০ শতাংশ জমিতে তরমুজ জাতীয় দুই ধরনের সাম্মাম বীজ বপন করেন লিটু সরদার। দেড় মাসের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ক হয় সাম্মাম ফল। এক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ সবুজ আর ভিতরে লাল এবং আরেক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ হলুদ আর ভিতরের অংশ লাল হলেও দুই ধরনের ফল খেতে মিষ্টি ও সু-স্বাদু।

লিটু সরদার জানান, পতিত ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথমবারের মতো সাম্মাম চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। প্রায় এক টন ফল উৎপাদন হয়েছে। একেকটি সাম্মাম ফল ২ থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়। প্রতি কেজি সাম্মাম পাইকারী দেড়শ’ এবং খুচরা ২ থেকে আড়াইশ’ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। 

লিটুর ছেলে হৃদয় সরদার বলেন, পড়াশোনার ফাঁকে বাবার কৃষি কাজে সহায়তা করছেন তিনি। তরমুজ জাতের সাম্মাম ফল উৎপাদনে তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি। বীজ রোপন থেকে পরিচর্যা উপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে। এছাড়া সময় মতো জৈব সার দেয়া হয়। এভাবে তিন মাস যেতে না যেতেই সাম্মাম পরিপক্ক ফলে রূপ নেয়। এই ফলের বেশ চাহিদা রয়েছে। নতুন জাতের এই ফল চাষ করলে সবাই লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন। 

বরিশাল মহানগর কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক বলেন, গিয়াসউদ্দিন লিটু একজন আদর্শ কৃষক। সে সব সময় নতুন নতুন কৃষিতে আগ্রহী। গত বছর তিনি হলুদ জাতের তরমুজ উৎপাদন করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি সৌদি আরবের সাম্মাম চাষ করেছেন। শসা এবং তরমুজের মতো অনেকটা সংকর জাতের এই ফল গাছে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম। ফলনও বেশ ভালো।  

খেতে সু-স্বাধু এই ফলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এগুলো বিক্রি করে সে লাভবান হবে। তার দেখাদেখি আশপাশের অনেকেই আগামীতে সাম্মাম চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা ফাহিমা হক। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

close