শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৩৯

থাই লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী মামুনুর

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে

থাই লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী মামুনুর

থাই জাতের লেবুর বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী মামুনুর রশীদ। করোনাকালীন সময়ে ব্যাপক চাহিদা, ফলনও বেশি এবং ভালো দাম পাওয়ায় থাই জাতের লেবু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। লেবু চাষের পাশাপাশি এখন কলম চারাও বিক্রি করছেন মামুনুর। 

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে মাস্টার্স পাশ করে চাকরির পিছনে না ছুটে আম-লিচুর বাগান করেন মামুনুর রশীদ। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে আম-লিচু বাদ দিয়ে এ থাই লেবু চাষ শুরু করেন। সারাবছর লেবুর ভালো চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে তার মুখে। তার সাফল্য দেখে অনেকেই লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেপারিটোলা গ্রামের মামুনুর রশীদ সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ৫৫০টি থাই এবং ১ হাজার ১৫০টি দেশীয় জাতের লেবুর চারা লাগিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে তার বাগানে লেবুর ফলন শুরু হওয়ায় বিক্রিও করছেন। চাহিদা থাকায় এরই মধ্যে গাছের কলম তৈরি করে বিক্রিও শুরু করেছেন।

মামুনুর রশীদ বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে মাস্টার্স শেষ করে বাড়িতে আসি। এরপরে চাকরির পেছনে না ছুটে ৭ বিঘা জমিতে গড়া পারিবারিক আম-লিচুর বাগানসহ চাষে ঝুঁকে পড়ি। কিন্তু আম-লিচুর বাগানে পরিশ্রম ও ব্যয়ের তুলনায় টাকা আসতো না। বছরে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হতো। এজন্য বিকল্প চিন্তা করি। এরপরে বাগানে ১০০টির মতো লেবু গাছ লাগাই। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ব্যক্তির লেবু চাষের সাফল্য দেখে লেবুর বাগান করার সিদ্ধান্ত নেই। খোঁজ করে দেখি সারাবছর লেবু ধরবে এবং প্রতিদিন লেবু যেন ৩-৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা যায়। খোঁজাখুঁজির পর যশোরের বেনাপোল থেকে সেই জাতের লেবুর খোঁজ পাই এবং চারা সংগ্রহ করি। পাঁচ বছর আগে ২০ বছর বয়সী আম-লিচুর গাছগুলো কেটে সেখানে লেবুর বাগান করি। অনেকে আমাকে পাগল বলে ভর্ৎসনা করছিলেন। এখন আমার লেবুর বাগানে ফলন এবং লাভ দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। বর্তমানে এ বাগান থেকে উৎপাদিত লেবু বিক্রি করে বছরে ৩-৪ লাখ টাকা আয় করেছি। পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকার কলম চারা বিক্রি করেছি। বর্তমানে প্রতিটি লেবু পাইকারি ৩ টাকা ও কলম চারা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

প্রতিবছর ৩-৪ লাখ টাকার কলম চারা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন মামুনুর। 

বাগানে কর্মরত শ্রমিক জাহিদ ও চঞ্চল বলেন, আমরা সাধারণত পড়ালেখার পাশাপাশি যে অবসর সময় থাকে সে সময়টুকু মামুন ভাইয়ের লেবুর বাগানে কাজ করে থাকি। আমাদের মতো এখানে ১৫-২০ জন ছাত্র কাজ করে। পড়ালেখার পাশাপাশি একটা বাড়তি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের অনেকটা সুবিধা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুরে  অনেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লেবু চাষ করছেন। একইসঙ্গে লেবুর চারা তৈরি করে তা বিক্রি করছেন, সেখান থেকেও ভালো আয় করছেন তারা। লেবু চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করে আসছি যাতে উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও হয়। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য