শিরোনাম
৩ জানুয়ারি, ২০২২ ১৪:১২

গ্রামজুড়ে খেজুর রসের উৎসব

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

গ্রামজুড়ে খেজুর রসের উৎসব

শীতের কাপড় খুলে গাছে উঠছেন গাছি। রসের মাটির কলসি কোমরে বেঁধে নামছেন। গাছতলায় মানুষের অপেক্ষা। আট থেকে ১০টি গাছের কলসি একটি গাছের তলায় জড়ো করেছেন। বাতাসে কাঁচা রসের মিষ্টি গন্ধ ভাসছে। গৃহস্তকে অর্ধেক রস দিয়ে বাকিটা তিনি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কেউ রস কাঁচা খাচ্ছেন। অনেকে রস নিয়ে চুলায় পায়েস রান্নার জন্য বসিয়ে দিয়েছেন। ছোট বড়রা পায়েস-মুড়ি মেখে নাস্তার অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ উঠানে চুলার পাশে বসে হাতে আগুনের তাপ নিচ্ছেন। গৃহস্ত বাড়িতে খেজুরের রস ছাড়া শীতের সকাল কল্পনাই করা যেত না। ১০ বছর আগের দৃশ্য এটি। কিন্তু এখন গ্রামে খেজুর গাছ প্রায় হারিয়ে গেছে। কিছু গাছ থাকলেও গাছ কাটার গাছি নেই।

জঙ্গলবাড়ি। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি গ্রাম। নগরীর কাপ্তান বাজার থেকে পরিবহনে ২০ মিনিটের পথ। মাঝিগাছা-কালিকাপুর সড়কের পাশে জঙ্গলবাড়ি। ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম। গ্রামজুড়ে খেজুর গাছ। শেষ বিকাল। খেজুরের রস খেতে নগরী ও গ্রাম থেকে অনেকে ভিড় করেছেন।
গাছ থেকে রস নামিয়ে জড়ো করছেন গাছি আরিফুর রহমান। তার ৫৩টি গাছ রয়েছে। প্রতিদিন রস পান। তবে একদিন অর্ধেক। পরের দিন বাকি অর্ধেক গাছ কাটেন। প্রতি গাছ থেকে প্রতিদিন দুইবার ভোরে ও বিকালে রস সংগ্রহ করেন। পাঁচ লিটার করে রস পান। প্রতিদিন প্রায় ১০০ লিটার। প্রতি লিটার রস কাঁচা বিক্রি করেন ৮০ টাকা। আরিফের পরিবারের ১০টি গাছ। তিনি গ্রামের আরও ৪৩টি গাছ লিজ নেন। প্রতি গাছ লিজ নেন মৌসুমে ২০০ টাকায়। বছরের তিন মাস অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস তিনি রস সংগ্রহ করেন।

সূত্র মতে, আরিফ বিদেশে ছিলেন। দেশে এসে মুরগির ফার্ম করলেও ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে দেখলেন গ্রামে খেজুর গাছ পড়ে আছে। গাছ কাটার গাছি না থাকায় এলাকাবাসীও রস খেতে পাচ্ছেন না। গত দুই বছর ধরে তিনি গাছ কাটেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মৌসুমে তার তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় হয়। 

আরিফুর রহমান জানান, বিদেশ থেকে এসে গাছ কাটতে নামায় অনেকে নেতিবাচক কথা বলেন। কেউ বলেন, মাথা ঠিক নেই। এখান থেকে কি আয় হবে। কেউ বলেন, আর কোন কাজ পেল না? আমার একজন সহকারী আছে। গাছ কাটতে সকাল বিকাল চার ঘণ্টার মতো সময় লাগে। বাকী সময় বাড়ির অন্য কাজ করতে পারি। এই কাজে আয়ের পাশাপাশি পরিচিতিও পেয়েছি। কুমিল্লা শহর থেকেও মানুষ রস খেতে আসেন। দরদ দিলে যে কোন পেশায় ভালো করা সম্ভব।

উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম ভিক্টোরিয়া ই-কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও কলেজ শিক্ষক কাজী আপন তিবরানী বলেন, আরিফ একজন ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা। সে পরিত্যক্ত খেজুর গাছ থেকে আয়ের ব্যবস্থা করেছে। তার মতো অন্য তরুণদেরও বসে না থেকে কাজে লেগে যাওয়া উচিত। 


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর