শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:০৩

কে হচ্ছেন নগরপিতা

আরাফাত মুন্না, সামছুজ্জামান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম, খুলনা থেকে

কে হচ্ছেন নগরপিতা

আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সারা দেশের দৃষ্টি এখন খুলনায়। কে হচ্ছেন খুলনার নগরপিতা তা নিয়ে সব মহলেই আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক নাকি বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিজয় মুকুট পরবেন— এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজই। আজ সকাল ৮টায় নগরীর সব ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হবে এবং তা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সোনাডাঙ্গায় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ ভোট গ্রহণের সামগ্রী। প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণসামগ্রী বুঝে নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো খুলনা মহানগরীতে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনে নতুন ৫৩ হাজার ভোটারের পাশাপাশি বস্তিবাসী ১ লাখ ভোটারও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। প্রচার-প্রচারণার সময় প্রায় প্রতিদিনই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, হুমকিতে উত্তাপ ছড়িয়েছিল। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট চান নগরবাসী। রিটার্নিং অফিসার বলছেন, নির্বাচনে সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে গোটা এলাকায়। রবিবার দুপুরের পরই মাঠে নেমেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬৪০ সদস্য। গতকাল থেকে বিজিবি ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) টহল দিচ্ছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্টও দেখা গেছে। রিটার্নিং অফিসারের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালে ভোট গ্রহণ সামগ্রী বিতরণের সময় রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্যের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও থাকবে মাঠে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ৪ হাজার ৯৭২ জন। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ২৮৯টি। এর মধ্যে ২টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ ২টি কেন্দ্রের ১০টি বুথের ২ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক দল থাকছে। কমিশনের যুগ্মসচিব আবদুল বাতেনের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল রবিবারই কাজ শুরু করেছেন। আবদুল বাতেন জানান, নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ ৫ হাজার ২২১ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।

জয়ের আশা প্রধান দুই প্রার্থীর : নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি এই সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলাম। অনেক কাজ করেছি।’ তিনি বলেন, গত নির্বাচনে খুলনার মানুষ ভুল করেছিল। সেই ভুলের খেসারতও দিয়েছে। খুলনার মানুষ একই ভুল দুবার করবে না। আওয়মী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের মেয়র প্রার্থীর সমন্বয়ক এস এম কামাল হোসেন বলেন, উন্নয়নের স্বার্থেই তারা নৌকায় ভোট দেবে। বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতায় সব ওয়ার্ডে আমার যাওয়া সম্ভব হয়নি। যেখানে গিয়েছি মানুষ তাদের মুখের হাসি দিয়ে আমাকে ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমি জয়ী হব।’

সংঘাত চান না ভোটাররা : প্রচারের শুরু থেকেই বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোট নিয়ে নানা শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিলেন। দুই দলের প্রার্থী ও সমর্থকের মধ্যে হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। তবে প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অঘটন ঘটেনি। তাই ভোটাররাও চান শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আকবর আলী সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত দুই দলই মারমুখী অবস্থায় ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা চাই ভোটের দিনও ভালোভাবে ভোট দিতে।’

মেয়র পদে প্রার্থী যারা : নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়াও আরও তিন দলের তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দলের প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের খুলনা মহানগরী সভাপতি মো. মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) খুলনা মহানগরী সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। এ ছাড়া এ নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ ও সংরক্ষিত ১০ নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ৩৯ জন।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা : ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৫৫টিকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী এ বিষয়ে জানান, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোট কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২২ জন সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশের মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার দল।

খুলনায় ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে : নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সামগ্রী পৌঁছে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে টহলে ও কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। দলীয় এ ভোটে প্রার্থীদের বাগ্যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও শেষ মুহূর্তে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, খুলনা সিটি এলাকা এখন ঠাণ্ডা অবস্থা। ভোট নিয়ে কারও কোনো আর শঙ্কা নেই। যারা (বিএনপি) অভিযোগ করেছে তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি- অভিযোগগুলো সত্যি নয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দেওয়ার কথা তুলে ধরেন সচিব। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সামনে সংসদ নির্বাচন। আরও সিটি ভোট রয়েছে তার আগে। খুলনার মাধ্যমে আমরা সবাইকে বার্তা দিতে চাই- সুষ্ঠু নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। সব সময় সুষ্ঠু নির্বাচন করবা আমরা।


আপনার মন্তব্য