শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৯

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি

—স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি

আগামী নির্বাচনে  যারাই সরকার গঠন করুক না কেন, তাদের প্রথমে যে পদক্ষেপটি নিতে হবে, তা হলো যে-ই অপরাধ করুক কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। যে অপরাধী, তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে হবে। আইন সবার জন্য সমান এই নীতি গ্রহণ করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারি দলের লোক বলে অপরাধ করে পার পাবে সেটা যেন না হয়। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আইনটা লিবারেল। অন্যদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কিন্তু এটা করা যাবে না। সবার আগে নিজ দলের কর্মীদের জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে যারাই সরকার গঠন করুক তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে—অন্যায়কারী যেই হোক, অন্যায় করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে সরকারি দলে থাকা লোকজনদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। যেন কিছু হবে না—এমন ভাবনা নিয়ে অপরাধ করার সুযোগ না পায়। সব মানুষই তাদের নিজের সন্তানকে ভালো ভাবে। অন্য সন্তান অন্যায় করলেও নিজের সন্তানকেই বেশি শাসন করেন। কারণ, অন্যায় করলে শুধরানোর জন্য শাসন করে। তেমনি যে রাজনৈতিক দল দেশকে বেশি ভালোবাসবে জনগণ তাদেরকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। সে কারণে তাকে প্রমাণ করতে হবে আইন সবার জন্য সমান। তিনি বলেন, রাজধানীসহ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কমিটি দরকার। মানুষকে আইন মান্য করতে হবে। যে যার মতো চললে হবে না। রাজধানীতে অনেক সমস্যা রয়েছে। এগুলো কেবল সিটি মেয়রদের পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। কারণ সিটি করপোরেশনের মেয়র রাস্তার লাইট লাগাতে পারবে—কিন্তু লাইটটি যদি হেলে পড়ে যায়, সেটা ঠিক করার জন্য আরেকটি অধিদফতরকে লাগবে। অন্যদিকে রাস্তা বা ড্রেন পরিষ্কার করার জন্য আরেকটি বিভাগ কাজ করে। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর মিলে মোট ৫৬টির মতো সংস্থার কাজ হয়। এ জন্য শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। যে কারণে একটি সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞ প্যানেল থাকবে, তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে। সর্বোপরি সবার জন্য আইন সমান—এটা প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সাধারণ মানুষকে ঠকানো যাবে না। চুরি, ডাকাতি, ব্যাংক লুট রোধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা দরকার।


আপনার মন্তব্য