শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:০৬

খালেদার মুক্তিতে বাধা তিন মামলা

মোট মামলা ৩৬, সাজা দুটিতে, বিচারাধীন ১১, স্থগিত ২৩

আরাফাত মুন্না

খালেদার মুক্তিতে বাধা তিন মামলা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে নানা আইনি জটিলতায় মুক্তি মিলছে      না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে এখন অন্তত তিন মামলায় জামিন পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পাশাপাশি কুমিল্লায় হত্যা মামলায় জামিন পেলেই তাঁর মুক্তি মিলবে বলে তাদের আশা। এদিকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আজ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মোট ৩৬ মামলার মধ্যে সাজা হয়েছে ২টিতে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছর কারাদন্ড দেওয়ার পর হাই কোর্টে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে সাত বছর কারাদন্ড দিয়েছে নিম্ন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। বাকি ৩৪ মামলার মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতিসহ ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে ২৩ মামলা।

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দ  নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর এই দন্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। পরে ১২ মার্চ তাঁকে চার মাসের জামিন দেয় হাই কোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর ১৬ মে তা বহাল রেখে ৩১ জুলাইর মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরে খালেদা জিয়া ৩১ জুলাইর মধ্যে হাই কোর্টে আপিল মামলার নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করলে আদালত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ায়। আর চার মাসের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আদালত কয়েক দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ায়। কিন্তু অন্য মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে যায়। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এর প্রমাণ হলো মানি লন্ডারিং মামলায় আদালত তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিল। সেই বিচারককে ধরার জন্য দুদক ও পুলিশ উঠেপড়ে লাগে। বাধ্য হয়ে সেই বিচারক দেশত্যাগ করেন। সরকারের কারণে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাও। এসব ঘটনা কারও অজানা নয়। তাই বলব, সরকার প্রভাব বিস্তার না করলে খালেদা জিয়া অনেক আগেই কারামুক্তি পেয়ে যেতেন। সরকার ইচ্ছা করলেই যে কোনো সময় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব। তাঁর কারামুক্তি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।’ এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ২টি দেওয়ানি ও ৩৪টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২ মামলায় বিচারিক আদালতে তাঁর সাজা হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকিগুলো হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।’ এহসান আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। শুধু রাজনৈতিক কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়েছে।’ খালেদা জিয়াকে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখতেই এসব মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ আদালতে হাজির করা হতে পারে : গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘গত ধার্য তারিখে (বৃহস্পতিবার) আদালত খালেদা জিয়াকে হাজির করতে পরোয়ানা জারি করেছে। ফলে কারা কর্তৃপক্ষ অবশ্যই তাঁকে হাজির করবে।’ জরুরি অবস্থার সময় দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী খালেদা জিয়া, তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো মামলা দায়ের করেন।


আপনার মন্তব্য