শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৪

তুচ্ছ ঘটনায় ড. মিজানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ক্ষোভ

মাহবুব মমতাজী

তুচ্ছ ঘটনায় ড. মিজানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ক্ষোভ

হলে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। এজন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হন তার প্রতি। ফলে তুচ্ছ এক ঘটনার জেরে তুলকালাম সৃষ্টি করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি স্যারের বিরুদ্ধে এক ধরনের পরিকল্পিত ক্ষোভ। তবে তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানায় শাখা ছাত্রলীগ। জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে টিভি রুমে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ফজলুল হক মুসলিম হল কর্তৃপক্ষ। আয়োজনে ছিলেন হল সংসদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আবাসিক শিক্ষক ড. মো. মমিনুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আবদুল কাদির। এ সময় সেখানে প্রভোস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। এ সময় এক শিক্ষার্থী তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রশ্ন করে বলেছিলেন- ‘স্যার, আমরা কি নিরাপদে নির্ভয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারব?’ তখন ড. মিজানুর রহমান বলেছিলেন, আমি যতক্ষণ এ হলে আছি ততক্ষণ ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে। আমি আমার শিক্ষকতায় সারা জীবন যা অর্জন করেছি, তা বাজে এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নষ্ট হতে দিব না। ব্যস্ততার কারণে ওইদিন হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে নিজের দৃঢ়তার কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে হল প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিলেন ড. মিজানুর রহমান। এর পরই তিনি হলে অবস্থান করা অছাত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেন। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও যারা হলের রুম দখল করে ছিল তাদের হল ছেড়ে দিতে সময় দিয়ে নোটিস টানিয়ে দেন। নির্ধারিত সময় পরেও রুম না ছাড়ার পর তিনি সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দেন। এরপর নেন কঠোর পদক্ষেপ। হলের দায়িত্বে থাকা অন্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দখলকারীদের রুম থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হলেই তা গৃহীত হয়ে যায়। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর উপাচার্যকে জানিয়েছি যে, আমি আর সেখানে ফিরতে চাই না। তবে শুক্রবারের ঘটনাটি ছিল অতি তুচ্ছ। সেখান থেকে কেন তুলকালাম করল? কারা করল? কারা এর পেছনে ইন্ধন দিল? এত ছেলে কোথা থেকে এলো এবং এটি পরিকল্পিত কিনা- তার প্রশ্ন রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও যারা ছিলেন তাদের রুম ছেড়ে দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর হলের রুম ব্যবহার করে কেউ বাইরে চাকরি করবে, আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা রুম পাবে না তা কী করে হয়। আমি যা করেছিলাম তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই করেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেও শুক্রবারের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে। 

এর আগে ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের পদ থেকে মর্যাদাহানির দুঃখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও হল সংসদে দেওয়া ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রার্থীদের দ্বারা তার মর্যাদাহানি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শুক্রবার বিকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বরাবর ওই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, এই বিক্ষোভ পরিকল্পিত কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। তবে এখন আমরা ডাকসু নির্বাচন ঘিরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময় পার করছি। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হলের মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ছেলে বেয়াদবি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। হল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে জায়নামাজ বিছাতে গিয়ে হলের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর গায়ে তার পা লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হন ওই শিক্ষার্থী। নামাজ শেষে ওই শিক্ষার্থী মিজানুর রহমানের ছেলেকে জেরা করেন এবং ক্ষমা চাইতে বললে মিজানুর রহমানের ছেলে ওই শিক্ষার্থীকে অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে হল সংসদে ছাত্রলীগ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শাহরিয়ার সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মাহফুজুর রহমানসহ হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা অধ্যাপক মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবি করেন।


আপনার মন্তব্য