Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৪

আগামীতে ফাইটার জেট চালাবে নারী : প্রধানমন্ত্রী

নির্যাতিত নারীর নয়, ধর্ষকের ছবি প্রচার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীতে ফাইটার জেট চালাবে নারী : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের মেয়েরা এখন সব জায়গায় এগিয়ে গেছে। চাকরি-বাকরি, খেলাধুলা সব ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে। এমনকি আমাদের মেয়েরা এভারেস্টও জয় করে ফেলেছে। আগামীতে নারীরা বিমান বাহিনীতে ফাইটার জেট চালাবে।

গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ধর্ষকের প্রতি যেন সবার ঘৃণা জন্মায়, সে জন্য তাদের নাম-পরিচয় ‘ভালোভাবে’ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকাল আমরা দেখি প্রায়ই শিশু ধর্ষণ ও নারী ধর্ষণ। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। যারা করে তারা সমাজের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা। যারা এ ধরনের কাজ করে, তাদের নাম-ধাম-চেহারা ভালোভাবে প্রচার করতে হবে। নির্যাতিতা নারী নয়, যে ধর্ষক তার পরিচয়, তার চেহারা এমনভাবে প্রচার করতে হবে যাতে সমাজের প্রতি স্তরের মানুষ তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। ধর্ষণকারীর শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের সচেষ্ট থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এর বিরুদ্ধে আরও জনমত সৃষ্টি করা দরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সেনাবাহিনীতে একসময় মেয়েদের জায়গা ছিল না। ’৯৬ সালে আমি এসে চালু করে দিই। এ ছাড়া আমি প্রথম কয়েকজন নারীকে সচিবের পদমর্যাদা দিই। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে এখন অনেক নারী কাজ করেন। এমনিতে নারী পাইলট আছেন। আগামীতে বিমান বাহিনীতে ফাইটার জেট চালাবেন তারা। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা প্রথম যে সংবিধান দিলেন সেখানে তিনি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন দেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন মেয়ে যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে তাহলে সমাজে তার ভালো অবস্থান হয়। আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসে কোনো নারীর চাকরির সুযোগ ছিল না। বঙ্গবন্ধু এই আইন বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই সময় নাজমুন আরা ছিলেন জেলা জজ। আমরা ক্ষমতায় এসে তাকে হাই কোর্টে নিয়ে আসি। শেখ হাসিনা বলেন, জেলা ডিসি, এসপির পদে মেয়েদের বাধা ছিল। এরপর আমি যাকে প্রথম নারী এসপি করে মুন্সীগঞ্জে আনলাম, তিনি দায়িত্ব নিয়েই ডাকাত ধরে ফেললেন। তার এ কাজের সঙ্গে আমিও জয়ী হয়ে গেলাম। খেলাধুলাতেও মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, নারী যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে তাহলে পরিবারে, সমাজে তার মতামতের গুরুত্ব থাকবে। এই গুরুত্ব পাওয়ার জন্য নারীদের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে সম্মাননাই পাই না কেন সব সম্মাননাই আমার দেশের। এবারও যে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মাননাটা পেয়েছি সেটা বাংলাদেশের সব মা-বোন এবং বিশ্বের সব নির্যাতিত নারীর জন্য উৎসর্গ করছি। তিনি বলেন, অনেক সময় আমাদের ধর্মীয় অনেক নেতা নারীদের শিক্ষা বা নারীদের কর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু আমি এটুকু বিশ্বাস করি যে, তারা অন্তত এটুকু স্মরণ করবেন, বিবি খাদিজাই কিন্তু প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।  এ অনুষ্ঠানে পাঁচজন নারীকে জয়িতা সম্মাননা দেওয়া হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, বাংলাদেশে ইউএনডিপির প্রতিনিধি মিয়া সেপো প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


আপনার মন্তব্য