শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪১

যে কারণে এমন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক

যে কারণে এমন ফলাফল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি  রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন  কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর। ডাকসুর বাকি পদগুলোতে ছাত্রলীগের নেতারা বিজয়ী হলেও হল সংসদ নির্বাচনে ৬টি ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এমনকি মেয়েদের একটি হলের সবগুলো পদেই বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পুরো ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদল ও বামজোটের। ডাকসু ও হল সংসদের কোথাও ছাত্রদল ও বামজোট কোনো পদে বিজয়ী হতে পারেনি। এতগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়কে বর্তমান ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি এক ধরনের অনাস্থা মনে করছেন সাবেক ডাকসুর নেতা ও বিশ্লেষকরা। পুরো প্যানেলের ভোট না পাওয়ায় নাখোশ ছাত্রলীগ নেতারা। এদিকে ডাকসু সব পদে ছাত্রলীগের বাইরে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিনজন বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া হল সংসদগুলোর মধ্যে শামসুন্নাহার হলে পুরো প্যানেলই স্বতন্ত্র, সুফিয়া কামাল হলে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র, কুয়েত মৈত্রী হলে ভিপি, জিএস, এজিএস পদে স্বতন্ত্র, ফজলুল হক হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র, একুশে হলে ভিপি স্বতন্ত্র, জহুরুল হক হলে জিএস পদে স্বতন্ত্র, ফজিলাতন নেছা হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ভিপি পদে পরাজয়ের নেপথ্যে কারণ হিসেবে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গ্রুপিং-লবিং এবং শীর্ষ পদের নেতাদের ভোট ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমঝোতার বিষয়টিও ক্যাম্পাসজুড়েই গুঞ্জন ছিল। ভোট চলাকালে জাল ব্যালট পেপার উদ্ধার ও কোটা আন্দোলনকারী নেতা নূূরুল হককে মারধরের ঘটনাও গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। এতে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি আঞ্চলিকতা এবং সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত  যোগাযোগ কম থাকার বিষয়টিও পরাজয়ের নেপথ্যে কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহসভাপতি (ভিপি) পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মো. নুরুল হক পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। অবশ্য স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণি সেমন্তী খান ২ হাজার ৬৭৬ ভোট। অন্যদিকে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্রার্থী লিটন নন্দী পান ১ হাজার ২১৬ ভোট। ভিপি পদে প্যানেলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৪৫ ভোট। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পান ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রাশেদ খান পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট। তবে জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক এ আর এম আসিফুর রহমান ত্বাসীন ভোট পান ৪ হাজার ৬২৮। স্বতন্ত্র প্রার্থী শাফী আবদুল্লাহ নামে এক ছাত্র ভোট পান ১ হাজার ৫১২টি। এ ছাড়া ছাত্র ফেডারেশনের উম্মে হাবিবা বেনজির ভোট পেয়েছেন ৬০৬টি। তার চেয়েও কম ভোট পান ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান অনিক। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কোটা আন্দোলনের নেতা ভোট পান মাত্র ৫ হাজার ৮৯৬ ভোট। এরপর কেউ আর হাজারের কোটায় যেতে পারেননি। তবে আবু রায়হান নামে এক ছাত্র পান ৬২৯ ভোট। এ ছাড়া খোরশেদ আলম পান ২৯৪ ভোট।

ডাকসুর ফলাফল : ভিপি জিএস এজিএস ছাড়াও বাকি ফলাফলও ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামান। সোমবার দিবাগত রাতে এ ফল ঘোষণা করেন তিনি। ভিপি হিসেবে নুরুল হকের নাম ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রলীগ। ভিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রায় এক ঘণ্টা জিম্মি করে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। পরে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়। এর আগে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়। অন্যান্য পদে এ ছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে সাদ বিন কাদের চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহরিমা তানজিম অর্নি, সাহিত্য সম্পাদক পদে মাজহারুল কবির শয়ন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে আসিফ তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাকিল আহমেদ তানভীর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে শামস-ঈ-নোমান ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

 ১৩টি সদস্যপদে বিজয়ীরা হলেন- যোশীয় সাংমা চিবল (১২ হাজার ৫৬৮), মো. রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য (১১ হাজার ২৩২), তানভীর হাসান সৈকত (১০ হাজার ৮০৫), তিলোত্তমা সিকদার (১০ হাজার ৪৬৬), নিপু ইসলাম তন্বী (১০ হাজার ৩৯৩), রাইসা নাসের (৯ হাজার ৭৬৮), সাবরিনা ইতি (৯ হাজার ৪৫০), মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (৮ হাজার ৬৭৩), নজরুল ইসলাম (৮ হাজার ৫০৯), মোছা. ফরিদা পারভীন (৮ হাজার ৪৮৯), মুহা. মাহমুদুল হাসান (৭ হাজার ৯৭৮), মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল (৭ হাজার ৮১২) ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজ (৫ হাজার ৫১৭)।


আপনার মন্তব্য