Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০৯

১০ বছর কর অবকাশ চায় বিএলডিএ

বৈধ উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ দাবি রিহ্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ বছর কর অবকাশ চায় বিএলডিএ

ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে ঢাকার বাইরে আবাসনশিল্পকে উৎসাহিত করতে মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচ বছর এবং অন্যান্য পৌর এলাকায় ১০ বছর ‘ট্যাক্স হলিডে’ ব্যবস্থা প্রচলনের প্রস্তাব জানিয়েছে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।  আবাসন খাতের আরেক সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) বলেছে, আগামী অর্থবছর বাজেটে বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। ফ্ল্যাট-প্লট নিবন্ধন ফি ও কর কমিয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ হোক।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে প্রাক্্-বাজেট আলোচনাকালে বিএলডিএ ও রিহ্যাব এসব প্রস্তাব করে। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এনবিআর আয়োজিত এ বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। আর বিএলডিএর পক্ষে একজন প্রতিনিধি তাদের ওই প্রস্তাব পেশ করেন।

বাজেট প্রস্তাবে বিএলডিএ বলেছে, আবাসন খাতের এ সংগঠন থেকে অর্থ আইন, ২০১৩-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ১৯বি পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধারার বিধান অনুযায়ী, একজন করদাতা যদি আবাসিক প্রয়োজনে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় বা নির্মাণে বিনিয়োগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের পরিমাপের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করেন, তাহলে কর বিভাগ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা বা এজেন্সি আয়ের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য এ আইনটি কার্যকর করার সুপারিশ করে বিএলডিএ।

সেকেন্ডারি বাজারে জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির নিবন্ধন ফি ৭ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ জানিয়ে সংগঠনের প্রস্তাবে আরও বলা হয়,  যেসব জমি বা ফ্ল্যাট প্রথম বিক্রির পর পাঁচ বছরের মধ্যে পুনরায় বিক্রয় হবে, কেবল সেসব জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বিক্রির জন্য সেকেন্ডারি মার্কেট চালু করা আবশ্যক।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্ল্যাট ও জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ধরে ১৪-১৬ শতাংশ অতিমাত্রার নিবন্ধন ব্যয় বিদ্যমান। একই সঙ্গে পুরনো ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে পুনরায় নতুন ফ্ল্যাটের সমান নিবন্ধন ব্যয় করতে হয়, যা অযৌক্তিক। নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এ ছাড়া নামমাত্র নিবন্ধন ব্যয় নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি বাজারব্যবস্থার প্রচলন করা প্রয়োজন।’ গৃহায়ণশিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস এবং অর্থ পাচার রোধে কোনো শর্ত ছাড়া আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান আলমগীর শামসুল আলামিন। আলোচনা সভায় রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া এনবিআর ও রিহ্যাবের যৌথ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’ এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আবাসন খাতের চলমান সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘১৪-১৬ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার এবং আইন মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে।’ রিহ্যাব থেকে বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসনে বিনিয়োগের সুযোগ চেয়ে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ১৯বি’র যুগোপযোগী সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘‘বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ‘সেকেন্ড হোম’ গ্রহণের সুযোগ থাকায় দেশের প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসব দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের অর্থের উৎস বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না।” রিহ্যাব নেতারা বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওই সব বিনিয়োগকারী ট্যাক্স-নেটের আওতায় আসবেন। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। দেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পর সংশ্লিষ্টদের কাছে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে আয়ের উৎস জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানোর কারণে আবাসনে বিনিয়োগে বৈরী পরিবেশ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব অনুসন্ধান যৌক্তিক পর্যায়ে আনা প্রয়োজন।’ রিহ্যাবের প্রস্তাবে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি এবং কর কমানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১.৫ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ, মূসক ১.৫ শতাংশ- এভাবে মোট ৭ শতাংশ নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে বলা হয়, বর্তমানে ব্যয় বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাট বা প্লটের ক্রেতারা নিবন্ধনে উৎসাহিত হচ্ছেন না। ফলে সরকার এ খাত থেকে রাজস্ব আয় কম পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অবিলম্বে নিবন্ধন  ব্যয় কমানো প্রয়োজন।


আপনার মন্তব্য