শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মে, ২০১৯ ২২:৫৪

ব্যবসায়ীদের চাপাচাপি করে রাজস্ব আদায় নয়

রুহুল আমিন রাসেল

ব্যবসায়ীদের চাপাচাপি করে রাজস্ব আদায় নয়
মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া

আগামী বাজেটে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধা বৃদ্ধিতে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। তার মতে, ভ্যাট ও কর আদায় সঠিকভাবে হলে রাজস্ব অনেক বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরে চাপাচাপি করা হবে না।

আগামী বাজেটে কর সুষমকরণে নজর দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কর আদায়ে মানুষের গায়ে যেন খুব বেশি আঁচ না লাগে, আবার সবাই যাতে রাজস্বের ভিতর অন্তর্ভুক্ত থাকেন, সেদিকে দৃষ্টি আছে। মানুষের গড় আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও এবার বিবেচনায় আছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে গত বুধবার সেগুনবাগিচার রাজস্ব ভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে রাজস্বের জন্য কিছু নতুন খাত যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট মালিক ও বড় বড় ফ্ল্যাটে যারা ভাড়া থাকেন, তাদের করের আওতায় আনার চেষ্টা থাকছে। অনেকের ব্যবসার ধরন ও আয় দেখে সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের চেষ্টাও থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাজেট প্রণয়নের কাজ পুরোদমে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী বাজেটে যাতে ভ্যাট, কর ও শুল্ককর সঠিকভাবে পাই, সেজন্য আমাদের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। বাজেটের একটা বড় অংশ রাজস্ব। এনবিআরের রাজস্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। মোট রাজস্বের ৮৫ শতাংশ আসে এনবিআর থেকে।’ তিনি বলেন, ‘এবার আমরা আয়কর আদায়ে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ উন্নত দেশগুলোয় আয়করের অবদান ৪০ শতাংশ। আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। এজন্য সক্ষমতা বাড়াব।’

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবার আমরা নতুন ভ্যাট আইন কিছুটা সংস্কার করে বাস্তবায়ন করব। এজন্য ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি মেশিন কিনে ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করব। এ মেশিনগুলো এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আমরা করহারে গুরুত্ব কম দিয়ে আদায়ে জোর দেব। আদায় সঠিকভাবে হলে রাজস্ব অনেক বেড়ে যাবে।’ মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য কিছু পরিবর্তন আনছি। এ আইনটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই, যাতে পরিমাণ না বাড়ে। নতুন আইনে তিন-চারটা হার থাকবে। কেউ যদি এখন ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেয়, তার জন্য সেটা যদি যুক্তিযুক্ত হয়, তাহালে সেটাই দেবে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশও নির্ধারণ করেছি। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান ৬ বা ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে কোথাও ৫ শতাংশ করেছি, আবার সাড়ে ৭ শতাংশ করেছি। ন্যূনতম ভ্যাটহার হবে ৫ শতাংশ। সে হিসেবে রাজস্ব টার্গেট করেছি। টার্গেট নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন থাকে যে, টার্গেট আমরা পূরণ করতে পারছি কিনা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের একটা সংগতি থাকতে হয়। আমরা অর্জন করতে চেষ্টা করি। টার্গেট অর্জন করতে না পারার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই।’ আয়কর প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী বাজেটে করপোরেট করহার কমানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মধ্যে আছে। যদিও উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে করমুক্ত আয়সীমা নেই। সেসব দেশে আয়ের ২৫ শতাংশ কর দেন নাগরিকরা। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো করমুক্ত আয়সীমার ক্ষেত্রে কাছাকাছি আছি। অটোমেশন কার্যক্রম ভালোই এগোচ্ছে। ভ্যাট অটোমেশন শেষ পর্যায়ে। কাস্টমসের অটোমেশন চলছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্য আধুনিকায়ন হবে।’ বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আগামী বাজেটে কী পদক্ষেপ থাকছে- জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। আসছে বাজেটে এ বিষয়ে পদক্ষেপ থাকবেই। শুল্ককর সুষমকরণের দিকনির্দেশনা থাকবে; যাতে বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহার কম হয়। ইতিমধ্যে বন্ডেড সুবিধা অপব্যবহারকারী ৬০ থেকে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছি। এগুলো বাতিলের প্রক্রিয়ায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানায় কাস্টমসের অভিযান চলছে। আমরা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকেও বলেছি, যেসব পোশাক কারখানা বন্ডের অপব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করুন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা বন্ড সুবিধা অপব্যবহারকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্রয় দেবে না।’


আপনার মন্তব্য