Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৯ ০২:২৯

বাঘের তাণ্ডবে উড়ে গেল উইন্ডিজ

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে স্বপ্ন পূরণের পথে বাংলাদেশ

বাঘের তাণ্ডবে উড়ে গেল উইন্ডিজ
সাকিবের সেঞ্চুরির পর লিটনের অভিনন্দন। দুজনই ছন্দে ছিলেন গতকাল -এএফপি

ক্যারিবীয় পেসার শেনন গ্যাব্রিয়েলকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেই দৌড়ে রাজকীয় স্টাইলে স্ট্যাম্প হাতে তুলে নিলেন লিটন দাস। অন্যপ্রান্তে সাকিব আল হাসান বোলারের সঙ্গে হাত মেলালেন! ঐতিহাসিক এমন এক জয়ের উদযাপন এটুকুই! অথচ এ ম্যাচেই সব ধরনের আসরে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ৩২২ রান। বাংলাদেশ জিতে যায় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তা আবার ৫১ বল হাতে রেখে। এমন নিরুত্তাপ ম্যাচে জয়ের পর উল্লাস করারই বা কী আছে! এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল উইন্ডিজ, তা দুই দিন আগে সাউদাম্পটনে ভুল প্রমাণ করেছে ইংলিশরা। আর কাল টনটনে তো বাংলাদেশ পাত্তাই দিল না ক্যারিবীয়দের।

এই জয়ে টাইগারদের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন যেন নতুন করে পাখা মেলল। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল অসাধারণ। ভীষণ উজ্জীবিত ছিলেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্লোজ ম্যাচে হেরে হতাশ হয়ে যায় টাইগাররা! তারপর কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হারটা যেন রীতিমতো বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। ব্রিস্টলে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় যেন সেমির আশাই ছেড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ! কিন্তু কাল টনটনে নতুন করে যেন অক্সিজেন পেল মাশরাফির দল। ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টাইগাররা এখন পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। পরের ম্যাচে নটিংহ্যামে টাইগারদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।

গতকাল বাংলাদেশের এই দুরন্ত জয়ের রূপকার সেই সাকিব! ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৪ রানের স্বপ্নিল এক ইনিংস। কোনো ছক্কা নেই, বাউন্ডারি ১৬টি। ওশেন থমাসের বলে দুর্দান্ত এক কাভার ড্রাইভ করে সেঞ্চুরি করেন। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তার। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৫, দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬৪, তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিটা তুলে নেন। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও সাকিব ১২১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে প  হওয়ায় বাংলাদেশ যেমন এক পয়েন্ট হারিয়েছে, তেমনি সাকিব শীর্ষ রান সংগ্রাহক হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিলেন। কাল সেঞ্চুরি করে আবারও শীর্ষে উঠে গেলেন। চার ম্যাচে ১২৮ গড়ে সাকিব কেরছেন ৩৮৪ রান। পাশাপাশি ৫ উইকেটও নিয়েছেন।

কাল টনটনে পার্শ্ব নায়ক অবশ্যই লিটন দাস। ৬৯ বলে ৯৪ রানের হার না মানা ইনিংস। সাকিবের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তার ১৮৯ রানের অপরাজিত জুটিই বাংলাদেশ জয়ের পথে নিয়ে গেছে। তবে একটুখানি আক্ষেপও রইল যে লিটনের। আর মাত্র ৬ রান হলেই যে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরিটা পেয়ে যেতেন তিনি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে এক ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ৭৬ করেছিলেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধেও খেলেছেন ৭২ রানের আরেকটি ইনিংস। এরপরও টিম কম্বিনেশনের কারণে সুযোগ পাচ্ছিলেন। কাল মোহাম্মদ মিথুনের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করে দিলেন। লিটন বুঝিয়ে দিলেন ওপেনার হলেও দলের প্রয়োজনে যে কোনো পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ভালো খেলার যোগ্যতা আছে তার। টিম কম্বিনেশনের দোহাই দিয়ে তাকে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই।

কাল তার ৯৪ রানের মারকাটারি ইনিংসে ছিল ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি বিশাল ছক্কার মার। গ্যাব্রিয়েলের ৭ নম্বর ওভারে তিনি যেভাবে টানা তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়েছেন তা ছিল দেখার মতো। ওভার থেকে এসেছিল ২২ রান। ক্যারিবীয় পেসারকে বুঝিয়ে দিয়েছেন টাইগাররা ফর্মে থাকলে ‘লাকি-সেভেন’ লাকি হয় না। কাল বোলিংয়ে আবার সরা তারকা ক্রিস গেইলকে ‘অপয়া-১৩’ এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজ। ১৩ বল খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক ‘বিস্ফোরক’ ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেলকেও রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করে দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেরা দুই ব্যাটসম্যান রান না করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আশা দিয়েছিলেন শাই হোপ। ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। লুইস খেলেছিলেন ৭০ রানের ইনিংস। তবে হেটমায়ারের হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়েই তো তিনশ পার করে ক্যারিবীয়রা। তিনি খেলেছেন ২৬ বলে ৫০ রানের ইনিংস। মুস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন ৩টি করে উইকেট নিলেও রানের গতি আটকাতে পারেননি। তবে টনটনের ছোট মাঠে ৩২২ রানের টার্গেট এক সময় বড়ই মনে হয়েছিল। দারুণ শুরু করে দিয়ে ব্যক্তিগত ২৯ রানে বিদায় নেন সৌম্য। আর সাকিবের সঙ্গে তামিম যেভাবে ব্যাট করছিলেন মনে হচ্ছিল আজকের দিনটা বুঝি তারই। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে দুর্ভাগ্যের শিকার হলেন ড্যাসিং ওপেনার। কটরেল বল করার পর ফলশ্রুতি থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত থ্রো-তে তামিমকে আউট করেন। মুশফিক ১ রানেই ফিরে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বিপদ আসন্ন। কিন্তু লিটন দাস বাইশ গজে যাওয়ার পর সব কিছু বদলে যায়। এটি যে তার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ব্যাটিং দেখে মনেই হচ্ছিল না। সাকিবের সঙ্গে দুরন্ত ব্যাটিং করে তিনি যেভাবে ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন মনে হচ্ছিল যেন, জয়ের পান্ডুলিপিটা তিনি ড্রেসিং রুমেই লিখেছেন, বাইশ গজে গিয়ে কেবল অভিনয় করেছেন!


আপনার মন্তব্য