শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪২

তিন বিচারপতিকে সাময়িক অব্যাহতি

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমেই সিদ্ধান্ত : সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন বিচারপতিকে সাময়িক অব্যাহতি

অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে হাই কোর্টের তিন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ সিদ্ধান্ত নেন। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জনানো হয়েছে। এই তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হক। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যতালিকায় নির্ধারিত বেঞ্চে এই তিন বিচারপতির নাম ছিল না। তারাও আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেননি।

এদিকে তিন বিচারপতির বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত আসার পর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, এটা অন্যদের জন্য নতুন বার্তা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, আরও অনেকের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিন বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি নিয়ে সকাল থেকে নানা গুঞ্জন চললেও সুপ্রিম কোর্ট বা আইন মন্ত্রণালয়ের কেউ মুখ খুলছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বিকালে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাই কোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হাই কোর্টের মাননীয় তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয় এবং পরে তারা ছুটি প্রার্থনা করেন।

সাংবাদিকরা তিন বিচারকের নাম জানতে চাইলে সাইফুর রহমান প্রথমে নিরুত্তর থাকেন। সাংবাদিকরা তখন তিন বিচারকের নাম বলে জানতে চান- তাদের ক্ষেত্রেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না। সাইফুর রহমান তখন বলেন, ‘আপনারা তো লিখেছেনই।’ তবে তিন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

এই তিন বিচারপতির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি চৌধুরী এ টি এম মাসুদের মেয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ২০০২ সালের ২৯ জুলাই হাই কোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এর দুই বছর পর ২০০৪ সালে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল কাজী রেজা-উল হক হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

অন্যদের জন্য নতুন বার্তা : অভিযোগের অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্টের তিন বিচারপতিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে দায়িত্ব পালনকারী অন্য বিচারপতিরদের জন্য নতুন বার্তা মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। গতকাল বিকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রধান বিচারপতি তিন বিচারপতির ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই নিয়েছেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য, বিচার বিভাগকে কলুষমুক্ত রাখার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এ দাবি আগে থেকেই ছিল।

এটাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : তিন বিচারপতিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকরা এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। আনিসুল হক বলেন, ‘আমি অবগত নই এ কারণে যে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। এটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির বিষয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাকে আগে অবগত হতে হবে।’

স্বাগত জানিয়েছেন খোকন : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার বিষয়টিকে স্বাগত জানাই। তবে এ তদন্ত কারা করছে, তা স্পষ্ট করারও দাবি জানাচ্ছি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর